নিউজ পোল ব্যুরো:মেসি-সংক্রান্ত বিতর্কে প্রাক্তন রাজ্য মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের (Arup Biswas) আইনি জটিলতা ক্রমশ গভীরতর হচ্ছে। এবার সরাসরি তাঁর বাসভবনে পৌঁছে দুটি নোটিস জারি করল বিধাননগর পুলিশ। সূত্রের দাবি, প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়ির দরজায় ওই নোটিস সাঁটিয়ে দিয়ে আসেন পুলিশ আধিকারিকরা।
আরও পড়ুন:কলেজ স্ট্রিটে তোলপাড়! পকসো মামলার অভিযুক্ত কাউন্সিলারের বাড়িতে তল্লাশি
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে নির্ধারিত সময়ে হাজিরা এড়ানোর যে আবেদন অরূপ বিশ্বাস করেছিলেন, তা গ্রহণ করতে নারাজ তদন্তকারীরা। নোটিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অসুস্থতার দাবি সমর্থনে তিনি কোনও গ্রহণযোগ্য চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি বা মেডিক্যাল রিপোর্ট জমা দেননি। সেই কারণে তাঁকে আগামী সোমবার সকাল ১১টার মধ্যে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ মে মেসির ভারত সফর-সংক্রান্ত অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক শতদ্রু দত্ত বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অরূপ বিশ্বাসের (Arup Biswas) বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারার উল্লেখ করে টিকিটের কালোবাজারি, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন এবং অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ তোলা হয়েছে।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীকে গত ৪ জুন থানায় হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিল পুলিশ। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে অসুস্থতার কথা জানান এবং অন্তত দু’সপ্তাহ সময় প্রার্থনা করেন। কিন্তু সেই আবেদন মঞ্জুর করতে অনীহা দেখিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। বরং নতুন নোটিস জারি করে তাঁকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারী মহলের ইঙ্গিত, নির্দেশ অমান্য হলে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
এদিকে, এই মামলায় গ্রেপ্তারি এড়াতে বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন অরূপ বিশ্বাস। তবে সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। পরবর্তীতে তিনি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। আগামী ৯ জুন তাঁর আগাম জামিন সংক্রান্ত মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু তার আগেই পুলিশি তৎপরতা এবং বাসভবনে নোটিস জারির ঘটনায় রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। ফলে প্রাক্তন মন্ত্রীর সম্ভাব্য গ্রেপ্তারি নিয়ে জোরদার হয়েছে রাজনৈতিক মহলের আলোচনা।
