নিউজ পোল ব্যুরো:মুর্শিদাবাদের নওদায় নির্বাচনী সভা থেকে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee Nawda rally)। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, অধীর চৌধুরী এবং হুমায়ুন কবীর-এর সঙ্গে বিজেপির গোপন সমঝোতা রয়েছে। রবিবারের সভা থেকেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে নিরাপত্তা দেয় রাজ্য পুলিশ, অথচ অধীর চৌধুরী ও হুমায়ুন কবীরকে সিআরপিএফ পাহারা দেয় কেন?” এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে।
অভিষেক আরও বলেন, বিরোধীরা দাবি করতে পারেন যে রাজ্য পুলিশ নিরাপত্তা দেয় না, কিন্তু তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ-এর বিরুদ্ধে মানুষকে অত্যাচারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি হলে মানুষের নিরাপত্তা ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। একইসঙ্গে দিল্লিতে প্রাক্তন সাংসদদের সরকারি বাড়ি ছাড়ার প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক দাবি করেন, অনেকেই বাড়ি ছাড়লেও অধীর চৌধুরীর বাড়ি এখনও রয়েছে, যা তাঁর মতে ‘সেটিং’-এর ইঙ্গিত বহন করে।
উল্লেখ্য, গত এক বছর ধরে মুর্শিদাবাদে তৃণমূল ও বিজেপির আঁতাতের অভিযোগ তুলে আসছেন অধীর চৌধুরী। তবে নওদার সভা থেকে সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দেন অভিষেক। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসআইআর সংক্রান্ত ঘটনায় মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রায় ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এই পরিবারগুলির পাশে তৃণমূল ছাড়া অন্য কোনও দল দাঁড়ায়নি। পাশাপাশি কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের বকেয়া পাওনা নিয়েও অধীরের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
দলের অন্দরের কোন্দল নিয়েও এদিন কড়া বার্তা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee Nawda rally)। তাঁর বক্তব্য, কারও যদি প্রার্থী পছন্দ না হয়, তবে মনে করতে হবে অভিষেক নিজেই প্রার্থী। তবে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না এবং দল কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি। সভা থেকে বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে অভিষেক দাবি করেন, সারা দেশে বিভিন্ন দল ভেঙে বিজেপিতে যোগ দিলেও বাংলায় তৃণমূলই একমাত্র দল, যেখানে বিজেপি ভেঙে নেতা-কর্মীরা তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত নওদা কেন্দ্রকে সামনে রেখে ‘সেটিং’ ইস্যু তুলে ভোটের মেরুকরণ ঠেকানোর কৌশল নিয়েছে তৃণমূল। আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আগে এই মন্তব্য যে নতুন করে বিতর্ক উসকে দেবে, তা বলাই যায়।
