Mamata Banerjee:‘যারা যুবসাথীর টাকা পায়নি, চিন্তার কারণ নেই— ডেকে ডেকে সব ঠিক করা হবে’, ভরসা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:ভোটের আগে বেকার ভাতা ইস্যুতে বাড়তে থাকা অসন্তোষের মাঝেই পরিস্থিতি সামাল দিতে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের টাকা না পাওয়া নিয়ে রাজ্যজুড়ে ক্ষোভ বাড়তে শুরু করায় প্রশাসন ও শাসকদল— দুই মহলেই চাপ স্পষ্ট।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/03/30/modi-slams-cpm-congress-setting-kerala-bjp-government-claim/

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বহু আবেদনকারী এখনও ব্যাঙ্কে টাকা না ঢোকার অভিযোগ তুলছেন। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে প্রায় ৭৪ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে। তবে যাচাই প্রক্রিয়ায় দেখা যায়, বহু আবেদনকারী ইতিমধ্যেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধাভোগী। নিয়ম অনুযায়ী একসঙ্গে দুটি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয়। ফলে স্ক্রুটিনির পর প্রায় ২০ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে এবং আপাতত ৫৪ লক্ষ আবেদনকারীকে যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে পুরুলিয়ার মানবাজারের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) স্পষ্ট বার্তা দেন— যাঁরা এখনও টাকা পাননি, তাঁদের আবেদনে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা ডুপ্লিকেট সমস্যা রয়েছে। সেই সব সমস্যা ডেকে ডেকে ঠিক করে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে তিনি জানান, এটি কোনও দান বা ভিক্ষা নয়, বরং কর্মসংস্থানের আগে যুবকদের ন্যূনতম আর্থিক সহায়তা।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনগুলিকে দ্রুত যাচাই প্রক্রিয়া শেষ করে রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২১ সালের নির্বাচনে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর সাফল্যের পথ ধরেই এবার আরও আগেভাগে টাকা পৌঁছে দেওয়ার কৌশল নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই পরিকল্পনায় প্রযুক্তিগত জটিলতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এদিকে আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ সামনে রেখে বিরোধী দলগুলি, বিশেষত ভারতীয় জনতা পার্টি, এই ইস্যুতে আক্রমণ শানাতে শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রচার এবং রাজনৈতিক তরজা বাড়তে থাকায়, বেকার ভাতা নিয়ে এই অনিশ্চয়তা নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে, ‘যুবসাথী’ প্রকল্প ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা ও রাজনৈতিক কৌশলের সমন্বয় করাই এখন শাসকদলের বড় চ্যালেঞ্জ— অসন্তোষ কমিয়ে ভোটের অঙ্ক সামলে রাখা।