তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে কি শুরু হতে চলেছে এক নতুন অধ্যায়? মদের বিপুল ব্যবসাকে ঘিরে বছরের পর বছর ধরে যে দুর্নীতি, অর্থ পাচার এবং রাজনৈতিক ফান্ডিংয়ের অভিযোগ ঘুরপাক খাচ্ছিল, এবার কি তারই বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়? ক্ষমতার কুর্সিতে বসার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই তাঁর কড়া বার্তা ঘিরে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে গোটা দক্ষিণ ভারতে। প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ রাজস্ব উৎস TASMAC কি এতদিন শুধুই সরকারি আয়ের মাধ্যম ছিল, নাকি তার আড়ালে চলছিল কোটি কোটি টাকার অদৃশ্য লেনদেন? মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এখন সেই অন্ধকার অধ্যায়ের পর্দা উঠতে শুরু করেছে। আর সেই কারণেই রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের চায়ের আড্ডা, সর্বত্র একটাই আলোচনা, বিজয়ের এই পদক্ষেপ কি তামিলনাড়ুর প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের সূচনা করবে?
গত শুক্রবার ৫ তারিখ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে জোসেফ বিজয় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, TASMAC-এর মাধ্যমে মদ বিক্রি করে যে আয় হবে তার প্রতিটি টাকা রাজ্যের কোষাগারে জমা দিতে হবে। কোনও ধরনের দুর্নীতি, কাটমানি বা অর্থ পাচার তাঁর সরকার বরদাস্ত করবে না। সূত্রের দাবি, প্রতি মাসে প্রায় ১০২ কোটি টাকা এই সংস্থার মাধ্যমে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল এবং গত পাঁচ বছরে সেই অঙ্ক দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৬০০ কোটি টাকায়। এই অভিযোগ সামনে আসতেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সম্ভাব্য অনিয়মের তদন্ত এবং পুরো নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখার কাজও শুরু হতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে।
এর আগেই জোসেফ বিজয় ঘোষণা করেছিলেন, মন্দির, স্কুল ও বাসস্ট্যান্ডের ৫০০ মিটারের মধ্যে থাকা সরকারি মদের দোকান বন্ধ করতে হবে। সেই সিদ্ধান্তের জেরে ৭১৭টি দোকান স্থায়ীভাবে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। এবার তাঁর নজরে এসেছে TASMAC-এর সম্পূর্ণ কাঠামো। বর্তমানে রাজ্যে ৪,০৪৮টি নিবন্ধিত মদের আউটলেট রয়েছে। সরকারের দাবি, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ কোনওভাবেই দুর্নীতির মাধ্যমে হারিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। ফলে TASMAC-কে ঘিরে এই অভিযান শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং বিজয় সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রথম বড় পরীক্ষা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
