Space News: ২৪০ কোটি বছর পুরনো সংঘর্ষের ঢেউ এসে পৌঁছল পৃথিবীতে! ব্রহ্মাণ্ডে ব্ল্যাক হোলের দ্বিতীয় প্রজন্মের সন্ধান

বিজ্ঞান

নিউজ পোল ব্যুরো: প্রায় ৭০ কোটি বছর আগেকার এক সংঘর্ষ, আরেকটি ঘটেছিল ২৪০ কোটি বছর আগে—কিন্তু তার ‘টের’ পাওয়া গেল মাত্র বছর খানেক আগে! এক শতাব্দী আগে অ্যালবার্ট আইনস্টাইন (Albert Einstein) যে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ (Gravitational Wave)-এর তত্ত্ব দিয়েছিলেন, সেই সূত্র ধরেই বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করলেন দুই ভয়ঙ্কর ব্ল্যাক হোল (Black Hole)-এর সংঘর্ষের নিদর্শন। শুধু তাই নয়, এই আবিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে ব্রহ্মাণ্ডে দ্বিতীয় প্রজন্মের বিশাল ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্বের দিকেও।

আরও পড়ুন: Smartphone Battery: স্মার্টফোন নয়, স্মার্ট বিপদ! নিজেকে বাঁচাতে জানুন সঠিক উপায়

যেমন করে বিশাল পুকুরে একটা ঢিল ফেললে ঢেউ ছড়িয়ে পাড়ে পৌঁছায়, তেমনই ব্রহ্মাণ্ডে কোনো মহাজাগতিক ঘটনা ঘটলে তার অভিঘাত ঢেউয়ের মতো ছড়িয়ে পড়ে—সেই ঢেউই মহাকর্ষীয় তরঙ্গ। কোটি কোটি বছর পর সেই তরঙ্গ এসে পৌঁছায় পৃথিবীতে। বিজ্ঞানীরা এবার এমন দু’টি তরঙ্গের হদিস পেয়েছেন—একটি সংঘর্ষ ঘটেছিল প্রায় ৭০ কোটি বছর আগে, আরেকটি প্রায় ২৪০ কোটি বছর আগে।

এই দুটি মহাজাগতিক ঢেউ পৃথিবীর ‘ঘাটে’ এসে ধরা দেয় ২০২৪ সালের ১১ অক্টোবর ও ১০ নভেম্বর। বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাগুলিকে নাম দিয়েছেন যথাক্রমে GW241011 এবং GW241110। এই আবিষ্কারের বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক জার্নাল The Astrophysical Journal Letters-এ।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole

ওয়াশিংটনের হ্যানফোর্ড ও লুইজিয়ানার লিভিংস্টোনে বসানো LIGO (Laser Interferometer Gravitational-Wave Observatory), ইতালির Virgo এবং জাপানের KAGRA ডিটেক্টর এই মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্ত করে। দেখা যায়, প্রথম ঘটনার ক্ষেত্রে একটি ব্ল্যাক হোল সূর্যের ভরের প্রায় ২০ গুণ, অন্যটি ৬ গুণ; আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে একটি ১৭ গুণ, অন্যটি ৮ গুণ ভরের ছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, দু’টি ক্ষেত্রেই বড় ব্ল্যাক হোলগুলি সম্ভবত সংঘর্ষের পর জন্ম নেওয়া “দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্ল্যাক হোল (Second-generation Black Hole)”।

তাঁরা লক্ষ্য করেছেন, এই ব্ল্যাক হোলগুলির ঘূর্ণন একেবারে অস্বাভাবিক—একটি অতি দ্রুত ঘুরছে, আরেকটি বিপরীত দিকে। এ রকম ঘটনাই ইঙ্গিত দেয় যে সংঘর্ষের পর বিশাল ব্ল্যাক হোলের জন্ম হয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে যতবার মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্ত হয়েছে, ততবারই আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতাবাদ (Theory of Relativity) নতুনভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আগে যেখানে মহাবিশ্বের খবর মিলত শুধু আলোকতরঙ্গ (Light Wave)—X-ray, Gamma Ray, Infrared, Ultraviolet-এর মাধ্যমে, এখন সেই জানালায় যুক্ত হল মহাকর্ষীয় তরঙ্গ। এই নতুন হাতিয়ার বিজ্ঞানীদের দিচ্ছে এক অনন্য সুযোগ—ব্রহ্মাণ্ডের গভীরে ঘটে যাওয়া কোটি কোটি বছরের পুরনো গোপন ইতিহাস জানার।