নিউজ পোল ব্যুরো: আজকের সময়ে নারী নিজের পড়াশোনা, কর্মজীবন, সংসার—সবই পরিকল্পনা করেই এগিয়ে চলেন। সেই পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে গর্ভধারণ (Pregnancy Precaution) নিয়ে সচেতনতা। একটু দেরিতে হলেও মাতৃত্বের স্বপ্ন পূরণ করতে চান অনেকেই। কেউ স্বাভাবিক পথে চেষ্টা করেন, কেউ আবার প্রয়োজনে আইভিএফ পদ্ধতির সাহায্য নেন। তবে বয়স বাড়লে জটিলতা বেড়ে যেতে পারে এবং শিশুর জন্মগত ঝুঁকিও বাড়ে। তাই গর্ভধারণ (Pregnancy Precaution)–এর আগে কিছু অত্যাবশ্যক পরীক্ষা করে নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
জানাচ্ছেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ মল্লিনাথ মুখোপাধ্যায়। তাঁর মতে, গর্ভধারণের আগে ‘এএমএইচ টেস্ট’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রক্তপরীক্ষা জানিয়ে দেয় নারী শরীরের ডিম্বাশয় কতটা সক্রিয়, কতটি ডিম্বাণু তৈরি হচ্ছে এবং গর্ভধারণের শক্তি ঠিক আছে কি না। বয়স বেশি হলে কিংবা আইভিএফ করানোর পরিকল্পনা থাকলে এই পরীক্ষা আরও জরুরি। গর্ভধারণ (Pregnancy Precaution) নিরাপদ রাখতে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এমন সমস্যাও আগে ধরা পড়া প্রয়োজন। তাই থাইরয়েড পরীক্ষা আবশ্যিক।
হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস পরীক্ষা জানিয়ে দেয় হবু মা থ্যালাসেমিয়ার বাহক কি না। যদি হন, বাবাকেও পরীক্ষা করতে হবে, কারণ দু’জনেই বাহক হলে সন্তানের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। পাশাপাশি রুবেলা আইজিজি টেস্ট শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা সম্পর্কে তথ্য দেয়। রুবেলার প্রতিষেধক সময়মতো নিলে ভবিষ্যতের ঝুঁকি কমে। জরায়ুতে সিস্ট, ফাইব্রয়েড, এন্ডোমেট্রিয়োসিস বা পিসিওএস আছে কি না, ‘এএমএইচ টেস্ট’ থেকে সেটিও জানা যায়। গর্ভধারণ (Pregnancy Precaution) এ বাধা সৃষ্টি করতে পারে এমন সমস্যাগুলি আগে থেকে ধরা পড়লে চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা যায় এবং গর্ভপাতের আশঙ্কাও কমে।
বয়স যদি ৩৫ পেরিয়ে যায়, তা হলে এনআইপিটি টেস্ট করা বিশেষ জরুরি। এতে বোঝা যায় অনাগত সন্তানের ডাউন সিন্ড্রোমের ঝুঁকি আছে কি না। রক্তচাপ ও ডায়াবিটিসের পরীক্ষাও করা প্রয়োজন, কারণ এ দু’টি সমস্যা গর্ভাবস্থাকে জটিল করে তুলতে পারে। অতীতে ক্যানসারের চিকিৎসা হয়ে থাকলে গর্ভধারণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সব মিলিয়ে, গর্ভধারণ (Pregnancy Precaution) নিরাপদ রাখতে সচেতন প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষাই ভবিষ্যতের সুস্থ মাতৃত্বের প্রথম ধাপ।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
