নিউজ পোল ব্যুরো: রণবীর সিংহকে ঘিরে বহু দিন পরে দর্শকমহলে ফের উন্মাদনা। তাঁর নতুন ছবি ‘ধুরন্ধর’ (Dhurandhar) মুক্তির আগেই নাকি অগ্রিম টিকিট বিক্রি থেকে আয় করে ফেলেছে প্রায় এক কোটি টাকা—এমনই দাবি নির্মাতাদের। আর সেই তথ্য সামনে আসতেই উদ্বেগে একাংশ বাংলা ছবির পরিবেশক ও হলমালিকেরা। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে মুক্তি পাওয়া একগুচ্ছ বাংলা ছবি—‘ডিপ ফ্রিজ’, ‘দি অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’, ‘লক্ষ্মীকান্তপুর লোকাল’, ‘পুলিশ’, ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’ ও ‘দেরি হয়ে গেছে’—সবাই কি টিকে থাকতে পারবে রণবীরের ঝড়ের সামনে?
টিকিটের দাম বৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলা এসএসআর সিনেমার মালিক শতদীপ সাহা। তাঁর দাবি, ‘ধুরন্ধর’ (Dhurandhar)-এর পরিবেশকেরা বহু শো চাইছেন ঠিকই, তবে তাঁর হলে বাংলা ছবিই অগ্রাধিকার পাবে। বোঝাপড়া না হওয়া পর্যন্ত তিনি অগ্রিম দিচ্ছেন না। শতদীপের মতে, বাংলা ছবির মধ্যে এই মুহূর্তে সবচেয়ে ভালো চলছে ‘দি অ্যাকাডেমি’। ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’–র কিছু শো হাউসফুল হয়েছে। তাই ‘ধুরন্ধর’ (Dhurandhar)-এর দাম বাড়লে অর্থনৈতিকভাবে উপকার হবে প্রেক্ষাগৃহগুলির।
অন্যদিকে নবীনা সিনেমার মালিক নবীন চৌখানির দাবি সম্পূর্ণ উল্টো। তিনি বলেন, ‘ধুরন্ধর’ (Dhurandhar)-এর পরিবেশকেরা নাকি সব শো দাবি করেননি। সব কিছু চলছে সরকারের নিয়ম অনুযায়ী। তবে এই মুহূর্তে তাঁর হলে একটি বাংলা ছবিও নেই—চলছে ‘তেরে ইশ্ক মেঁ’। ধনুশ ভক্তদের সমাগমও চোখে পড়ার মতো। ফলে ‘ধুরন্ধর’ (Dhurandhar) আদৌ তাঁর প্রেক্ষাগৃহে জায়গা পাবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।
প্রিয়া হলের মালিক অরিজিৎ দত্ত অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—রণবীরের ছবি হলে চালাতে চান, তবে সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী বাংলা ছবিও চালাতে বাধ্য তাঁরা। টলিউড বিশ্লেষক পঙ্কজ লাডিয়ার মতে, ছবি চলে তারকা বা ভাষা দেখে নয়, চলে গল্প দেখে। তাঁর কথায়, বুক মাই শো–র তথ্যই বলে দেবে কোন ছবি কতটা দর্শক টানছে। তবে তিনি স্বীকার করছেন, দীর্ঘ বিরতির পর রণবীরকে বড়পর্দায় দেখতে উৎসাহিত দর্শকের সংখ্যা কম নয়। বাংলা ছবির ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে মন্দার মুখে। তাই কি পরিবেশকেরা হিন্দি ছবির দিকে ঝুঁকছেন? প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে। তবে নিশ্চিত—‘ধুরন্ধর’ (Dhurandhar) মুক্তি ঘিরে টলিউডে ইতিমধ্যেই দোলাচল শুরু হয়ে গিয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
