নিউজ পোল ব্যুরো: বাংলায় নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) শুরু হতেই তীব্র অস্বস্তিতে পড়েছে বঙ্গ বিজেপি। দলীয় শীর্ষনেতারা মনে করেছিলেন, এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক মুসলিম ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়বে, যা আগামী নির্বাচনে বিজেপির জন্য সুবিধাজনক হবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে উল্টো চিত্র। প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, যেসব নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তার বেশিরভাগই হিন্দু ভোটার—অর্থাৎ বিজেপির নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক। ফলে গেরুয়া শিবিরে ছড়িয়েছে চরম উদ্বেগ।
আরও পড়ুন:TET: বুধেই প্রাথমিক নিয়োগ মামলার রায়, ৩২ হাজার শিক্ষকের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে হাই কোর্ট
সূত্রের খবর, জেলার বিভিন্ন স্তর থেকে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পৌঁছেছে একের পর এক সতর্কবার্তা। স্থানীয় ইউনিটগুলি জানিয়েছে, ধর্মীয় মেরুকরণকে ভিত্তি করে তৈরি করা রাজনৈতিক সমীকরণ এবার বুমেরাং হতে পারে। বিজেপি যাদের নিশ্চিত সমর্থক বলে ধরে নিয়েছিল, সেই অংশের ভোটারদেরই নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে রাজ্য সভাপতিকে থেকে বিরোধী দলনেতা—সব স্তরের নেতার কপালে ভাঁজ পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আগামীকাল, বুধবার, দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বি.এল. সন্তোষ, পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল, নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব, মঙ্গল পাণ্ডে এবং অমিত মালব্যর। বাংলার তরফে বৈঠকে যোগ দেবেন শমিক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদারসহ রাজ্য নেতৃত্ব।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
দলের এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের উপর যেভাবে চাপ বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা আগের মতোই চলবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্তর থেকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও যোগাযোগ জোরদার করা হবে। একইসঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রভাবে তৈরি হওয়া সংকট সামাল দিতে নতুন কৌশল ঠিক করাই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। এর মাঝেই আরেক দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে রাজ্য কমিটি গঠনের বিষয়টি। অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এমনিতেই তীব্র, তার মধ্যে নতুন কমিটি প্রকাশ পেলে নীচুতলার কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে বলেই মত বহু নেতার। এতে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে নিয়োজিত কর্মীরা মনোবল হারাতে পারেন এই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সূত্রের খবর, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভার পরিকল্পনা, ভোটপ্রচারের রূপরেখা এবং ভোটের আগে কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও বিস্তৃত আলোচনা হতে পারে। বাংলায় নির্বাচনের আগেই সংগঠন ও ভোটার ভিত্তি দু’দিক সামলানোই এখন গেরুয়া শিবিরের বড় চ্যালেঞ্জ।
