Jadavpur University: কনভোকেশনের দিন রাজ্যপাল উপস্থিত থাকাকালীন, যাদবপুরে এসএফআই-এর বিক্ষোভ!

শহর শিক্ষা

নিউজ পোল ব্যুরো : প্রায় তিন বছর পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত হল কনভোকেশন বা সমাবর্তন অনুষ্ঠান। দীর্ঘ বিরতির পর এই গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হলেও, শুরু থেকেই তা ঘিরে তৈরি হয় উত্তেজনা। ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং আইসিসি (Internal Complaints Committee) নির্বাচন অবিলম্বে করার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করেন পড়ুয়াদের একাংশ। সমাবর্তনের জন্য নির্ধারিত মঞ্চের বাইরে জড়ো হয়ে স্লোগান ও প্রতিবাদের মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরেন তাঁরা। সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন আচার্য তথা রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস।

আরও পড়ুন: Kolkata: পঞ্চায়েত ভবনের ভেতরেই প্রধানকে মারধরের অভিযোগ, চাঞ্চল্য রাজারহাটে

নির্ধারিত সময় মেনেই কনভোকেশন অনুষ্ঠান শুরু হয়। তবে মঞ্চে অনুষ্ঠান চলাকালীন বাইরে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখে ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI)। সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়, দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোয় একাধিক সমস্যা জমে উঠেছে, যার কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। এই বিষয়ে এসএফআই কলা বিভাগের সম্পাদক চিন্তন বিশ্বাস বলেন, গত সাত বছর ধরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। চার বছর পর স্থায়ী উপাচার্য দায়িত্ব গ্রহণ করলেও, এখনও বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ শূন্য রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, স্থায়ী কর্মী ও আধিকারিকের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যাগুলির সমাধান প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানান ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

এসএফআই-এর আরও অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের যে আর্থিক অনুদান পাওয়ার কথা ছিল, তা দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। সংগঠনের দাবি, গত দু’বছরের হিসাব অনুযায়ী বকেয়া অনুদানের পরিমাণ প্রায় ৪০ থেকে ৪২ কোটি টাকা। এই আর্থিক সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিক্ষা পরিকাঠামো, গবেষণা এবং ছাত্রছাত্রীদের সুযোগ-সুবিধার উপর।বুধবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয় ৬৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান। দীক্ষান্ত ভাষণ দেন অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন (AICTE)-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান টি জি সীতারাম। ২০২২ সালের পর ২০২৫ সালে প্রথমবার স্থায়ী উপাচার্যের হাত থেকে শংসাপত্র গ্রহণ করেন ছাত্রছাত্রী ও গবেষকেরা। এ বছর মোট ২,৪৪৭ জন স্নাতক, ১,৬৬৯ জন স্নাতকোত্তর এবং ৩৭৩ জন পিএইচডি গবেষককে শংসাপত্র দেওয়া হয়।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

সমাবর্তন মঞ্চ থেকে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস জানান, “গত কয়েক বছর আমি এখানে আসিনি। এ বারের কনভোকেশন বৈধ বলেই আমি উপস্থিত হয়েছি।” উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে সমাবর্তনের পরিকল্পনা থাকলেও রাজ্যপাল শেষ মুহূর্তে উপস্থিত হননি। রাজ্য সরকারের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরেই সেই সময় পরিস্থিতি জটিল হয়েছিল। ২০২৪ সালে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যকে চিঠি দিয়ে কনভোকেশনকে অবৈধ বলেও দাবি করেছিলেন রাজ্যপাল। সেই প্রেক্ষাপটে এবারের সমাবর্তন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।