নিউজ পোল ব্যুরো: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজ্যে একাধিক মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। মৃতদের পরিবারের এক সদস্যকে ‘স্পেশাল হোমগার্ড’ পদে চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৬১ জনের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেবেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই জেলাভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করেছে নবান্ন।
আরও পড়ুন: Kolkata Earthquake : হঠাৎ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল মহানগর! দক্ষিণবঙ্গজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া থেকে ১ জন করে, নদিয়া ৩, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ৪ জন করে, পূর্ব বর্ধমান ৫, হাওড়া ৩, মুর্শিদাবাদ ১১, উত্তর ২৪ পরগনা ২, কলকাতা ১, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ৫, বীরভূম ৪, কোচবিহার ৩, উত্তর দিনাজপুর ৩, মালদহ ৫, দক্ষিণ দিনাজপুর ১ এবং জলপাইগুড়ি থেকে ৫ জন এই সুযোগ পাচ্ছেন। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আতঙ্কের জেরে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে আগরপাড়ায়। ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর পানিহাটির মহাজাতিনগরে ৭৭ বছর বয়সী প্রদীপ করের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে ‘আমার মৃত্যুর জন্য এনআরসি দায়ী’ লেখা ছিল বলে দাবি পরিবারের। এরপর টিটাগড়, নোয়াপাড়া, দত্তপুকুর, দেগঙ্গা, নৈহাটি, আমডাঙা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ ও অশোকনগর-সহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় এসআইআর-জনিত মানসিক চাপের অভিযোগ ওঠে। শুধু সাধারণ নাগরিকই নন, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে যুক্ত কয়েকজন বিএলও-র মৃত্যুর ঘটনাও সামনে আসে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
এই পরিস্থিতির জন্য নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনার ঘাটতি ও অতিরিক্ত কাজের চাপকে দায়ী করেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। শুরু থেকেই মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিল সরকার। সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৬১টি পরিবারকে চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে আর্থিক সঙ্কটে পড়া পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
