নিউজ পোল ব্যুরো: বাংলায় ক্ষমতায় এলে ছয় মাসের মধ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিল বিজেপি (BJP)। শুক্রবার শহরে এসে দলের ‘সংকল্প পত্র’ বা ইশতেহার প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সেই ইশতেহারেই UCC চালুর ঘোষণা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আসলে কী এবং তা বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে? অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) মূলত এমন একটি আইনব্যবস্থা, যেখানে ধর্ম নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকের জন্য বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ ও সম্পত্তি সংক্রান্ত নিয়ম এক করা হয়। অর্থাৎ হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান বা অন্য কোনও ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা ব্যক্তিগত আইন না থেকে, একটি সাধারণ আইন সবার উপর সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
আরও পড়ুন: Anindita Raychaudhury : শ্বেতার বেঁচে ফেরা নিয়ে কটাক্ষ! কড়া বার্তায় ট্রোলারদের জবাব অনিন্দিতার
এই বিধি কার্যকর হলে বহুবিবাহ (Polygamy) সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ হতে পারে এবং সব বিয়েকেই বাধ্যতামূলকভাবে নথিভুক্ত (Marriage Registration) করতে হবে। একইসঙ্গে ‘লিভ ইন রিলেশনশিপ’ (Live-in Relationship) আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হতে পারে। অর্থাৎ, কোনও প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ একসঙ্গে থাকতে চাইলে তা নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানাতে বা নথিভুক্ত করতে হতে পারে। নির্দিষ্ট বয়সসীমার নিচে হলে অভিভাবকের সম্মতিও প্রয়োজন হতে পারে। এই ব্যবস্থায় সন্তানের অধিকার (Inheritance Rights) আরও সুস্পষ্ট করা হয়। লিভ-ইন সম্পর্ক থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানেরাও বাবা-মায়ের সম্পত্তিতে সমান অধিকার পেতে পারে। এছাড়া নারী-পুরুষের বিয়ের ন্যূনতম বয়স যথাক্রমে ১৮ ও ২১ বছর নির্ধারিত থাকবে এবং তা সব ধর্মের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
তবে এই আইন সব সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তফসিলি উপজাতি বা আদিবাসী সমাজের নিজস্ব রীতি-নীতি (Tribal Customs) সাধারণত এর বাইরে রাখা হয়। ফলে ‘অভিন্ন’ শব্দটি নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন তুলেছেন যেখানে সব সম্প্রদায় অন্তর্ভুক্ত নয়, সেখানে এই আইনের প্রকৃত অর্থ কতটা সর্বজনীন? এছাড়া ব্যক্তিগত স্বাধীনতা (Right to Privacy) নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের মতে, লিভ-ইন সম্পর্কের মতো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী হতে পারে। ফলে UCC নিয়ে সমর্থন ও বিরোধ দুই মতই সমানভাবে জোরালো হয়ে উঠছে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে।
