Mumbai : কার্বন মনোক্সাইড ইনহেল করে মৃত্যু যুবকের

breakingnews দেশ

নিউজ পোল ব্যুরো: মুম্বইয়ের ভাসাইতে (Vasai, Mumbai) ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ২৭ বছরের এক তরুণ (Young Man) নিজের জীবন শেষ করলেন বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড (Carbon Monoxide) ইনহেল (Inhale) করে। আর তাঁর এই আত্মহত্যা (Suicide) কোনো প্রেমঘটিত বা আর্থিক সমস্যার কারণে নয়, বরং দীর্ঘদিনের শারীরিক যন্ত্রণার কারণেই এই মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ Asteroid: মহাজাগতিক দানব ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে

উল্লেখ্য, মুম্বাইয়ের (Mumbai) যে বাংলোর ভেতরে ওই যুবক আত্মহত্যা করেছেন, তার দরজাতেই প্রথম চোখে পড়ে একটি সতর্কবার্তা— “সাবধান! ভিতরে কার্বন মনোক্সাইড।” বন্ধ বাংলোর ভেতরে যখন পুলিশ ঢোকে, তখনই বোঝা যায় কত পরিকল্পিতভাবেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দরজাটি বাইরে থেকে কাঠের গুঁড়ি দিয়ে আটকে দেওয়া ছিল, যাতে কেউ সহজে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। পরিবারের তরফ থেকে নিখোঁজ (Missing) অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। যুবকের মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করে তাঁরা পৌঁছে যায় মুম্বইয়ের (Mumbai) এই বাংলোর সামনে। এরপর দরজায় সেই সতর্কবার্তা দেখে পুলিশ দমকল (Fire Brigade) ডেকে আনে এবং দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।

ঘরে প্রবেশ করতেই পুলিশ চমকে ওঠে। সারি দিয়ে রাখা একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার (Gas Cylinder)। পুরো ঘর ছিল বাতাস চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ (Sealed)। জানালাগুলিও কাঠ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে কোনোভাবেই বাইরের বাতাস প্রবেশ করতে না পারে। জানা যায়, দুই দিন আগেই ওই যুবক একজন মিস্ত্রি ডেকে জানালাগুলি কাঠ দিয়ে ঢেকে দিয়েছিলেন। এরপর পুলিশ বাংলোর বেডরুমের দরজায় আরও একটি সতর্কবার্তা দেখতে পায়— “সাবধান! ভিতরে কার্বন মনোক্সাইড। আলো জ্বালিও না।”

পুলিশ যখন বেডরুমের দরজা ভেঙে ফেলে, তখন দেখা যায় এক মর্মান্তিক দৃশ্য। ওই যুবক নিথর অবস্থায় পড়ে আছেন, গ্যাস সিলিন্ডারের সঙ্গে যুক্ত নেবুলাইজারের ইনহেলেশন মাস্ক (Inhalation Mask) মুখে লাগানো! সুইসাইড নোট (Suicide Note) পাওয়া যায় ঘরের দেওয়ালে। তদন্তে উঠে এসেছে, ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরে একাধিক কঠিন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন (Chronic Illness)। এমন কিছু রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন, যেগুলির চিকিৎসা সম্ভব ছিল না।

নিউজ পোল ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/

অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। ঘরের প্রতিটি ছোটখাটো ব্যবস্থাই দেখিয়ে দেয়, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত (Planned Suicide) ঘটনা। জানালাগুলি বন্ধ, দরজায় সতর্কবার্তা, ইনহেলেশন মাস্কের ব্যবহার, এমনকি সুইসাইড নোটও তাঁর মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট করে দেয়। এর মধ্যেই ঘটনার গভীরে তদন্ত করছে পুলিশ প্রশাসন। তবে এতটা পরিকল্পিতভাবে কেউ আত্মহত্যা করলে তা সত্যিই প্রশ্ন তোলে, মানুষ কতটা মানসিক কষ্ট পেলে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে?