নিউজ পোল ব্যুরো:আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ডিম (Benefits of eating eggs) এমন এক খাবার, যা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। অনেকেই মনে করেন নিয়মিত ডিম খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, আবার অনেকে বলেন প্রতিদিন একটি ডিম খাওয়া শরীরের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী। আসলে, ডিমের প্রকৃত গুণাগুণ সম্পর্কে ধারণা পরিষ্কার না থাকার কারণেই এই বিভ্রান্তি। পুষ্টিবিদদের মতে, ডিম হলো পৃথিবীর অন্যতম সেরা সুপারফুড। এটি শুধু সহজলভ্যই নয়, বরং স্বাদ ও পুষ্টিগুণে ভরপুর। মাছ–মাংসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পুষ্টি জোগাতে সক্ষম এই খাবার শিশু থেকে বৃদ্ধ, সকলের জন্যই সমানভাবে প্রয়োজনীয়।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/08/24/idhika-paul-in-kaushik-gangulys-film/
ডিমের ভেতরে রয়েছে প্রোটিন, ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন বি–১২, বায়োটিন, থায়ামিন ও সেলেনিয়ামের মতো অমূল্য পুষ্টি উপাদান। এর পাশাপাশি ডিমে আছে নয়টি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড, যা আমাদের শরীর নিজে থেকে তৈরি করতে পারে না। তাই এগুলো খাদ্যের মাধ্যমে পাওয়া জরুরি, আর ডিম সেই চাহিদা পূরণ করে অত্যন্ত সহজে। নিয়মিত ডিম খাওয়ার ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, শরীরে শক্তি বাড়ে, দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা পায় না এবং হজমপ্রক্রিয়াও সক্রিয় থাকে। একই সঙ্গে ডিমের মধ্যে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন চোখকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এ কারণে ডিমকে অনেক সময় “চোখের জন্য সেরা খাবার” বলেও আখ্যা দেওয়া হয়।
তবে ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে (Benefits of eating eggs) বড় প্রশ্ন হলো—কীভাবে খাওয়া উচিত? আমাদের মধ্যে অনেকেই সকালে ব্রেকফাস্টে পোচ বা ওমলেট খেতে ভালোবাসেন। এগুলো সুস্বাদু হলেও তাতে অতিরিক্ত তেল ও চর্বি ব্যবহার হয়, যা শরীরে জমে দীর্ঘমেয়াদে নানা সমস্যার কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, সেদ্ধ ডিম হলো সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর বিকল্প। একটি গোটা সেদ্ধ ডিমে থাকে মাত্র ৭৮ ক্যালরি, প্রায় ৬.৩ গ্রাম প্রোটিন এবং খুব কম পরিমাণে ফ্যাট, যা শরীরের জন্য আদর্শ। বিপরীতে, ওমলেটের ক্যালরি ও ফ্যাটের মাত্রা তুলনামূলক বেশি, ফলে এর অতিরিক্ত খাওয়া এড়ানো উচিত।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
ডিম শুধু প্রোটিন নয়, এতে থাকা ভিটামিন ও খনিজ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ত্বক ও চুলকে স্বাস্থ্যকর রাখে এবং মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা উন্নত করে। তাই প্রতিদিন সকালে নাশতায় একটি সেদ্ধ ডিম খেলে সারাদিন এনার্জি ধরে রাখা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালের খাবারে ডিম রাখলে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হয়, অথচ পেট গরম হওয়ার ভয় বা অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দেয় না।
সব দিক বিবেচনা করলে দেখা যায়, ডিম খাওয়া মোটেই ক্ষতিকর নয়। বরং কীভাবে এবং কোন রূপে খাওয়া হচ্ছে, সেটাই নির্ধারণ করে এর প্রকৃত উপকারিতা। তাই পোচ বা ওমলেটের পরিবর্তে যদি প্রতিদিনের ব্রেকফাস্টে একটি সেদ্ধ ডিম যোগ করেন, তবে সহজেই শরীরের সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব।
ডিম হলো এক সম্পূর্ণ খাবার। এতে রয়েছে এমন সব পুষ্টি উপাদান, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে অপরিহার্য। কিন্তু উপকার পেতে হলে খাওয়ার পদ্ধতিতে সচেতন হতে হবে। তাই রোজ সকালে নাশতায় রাখুন একটি সেদ্ধ ডিম—ছোট এই অভ্যাসই আপনার সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করবে দীর্ঘ সময়ের জন্য।
