সঙ্গীতা ঘোড়ুই : হিমালয়ের(Himalaya) কোলে জন্ম নেওয়া এক অলৌকিক ও দুর্লভ ফুল হল ব্রহ্মকমল(Brahma Kamal)। মহাবিশ্বের স্রষ্টা ব্রহ্মার প্রিয় এই ফুলকে হিন্দুধর্মে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়। শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমার ভোরে যখন এই ফুল ফোটে, তখন তার সৌন্দর্য যেমন অপার্থিব, তেমনি এর সঙ্গে যুক্ত থাকে আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ও সৌভাগ্যের আশীর্বাদ।
আরও পড়ুন: Daily Habits :বিছানা গুছোবেন কীভাবে? ঘুম থেকে ওঠার পর স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের রইল ছোট টিপস
পৌরাণিক কাহিনি বলছে, মহাদেব ব্রহ্মকমলের জল ছিটিয়ে গণেশকে জীবিত করেছিলেন। তাই একে সঞ্জীবনী ফুল হিসেবেও মানা হয়। আবার ভগবান বিষ্ণু মহাদেবকে হাজার ব্রহ্মকমল(Brahma Kamal) নিবেদন করেছিলেন। একটি ফুল কম পড়লে তিনি নিজের একটি চোখ উৎসর্গ করেন। সেখান থেকেই শিবের নাম হয় কমলেশ্বর এবং বিষ্ণুর নাম কমল নয়ন। এই গল্পই ফুলটির আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্যকে আরও গাঢ় করে তোলে।বছরে মাত্র একবার ফোটা এই ফুল থাকে মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তবুও বিশ্বাস করা হয়, যে কেউ ব্রহ্মকমল(Brahma Kamal)ফুটতে দেখেন, তার জীবনে সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধি আসে।

হিন্দুধর্মে এটি বিশুদ্ধতা, জ্ঞান ও আধ্যাত্মিক উন্নতির প্রতীক। বলা হয়, যে বাড়িতে ব্রহ্মকমল ফোটে, সেখানে দেবী লক্ষ্মীর আবাস ঘটে, আর পরিবার পায় অশেষ সমৃদ্ধি ও শান্তি।জ্যোতিষশাস্ত্রেও ব্রহ্মকমলের(Brahma Kamal) বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ভগবান শিবকে এই ফুল নিবেদন করলে দ্রুত ফল পাওয়া যায় এবং সৌভাগ্য বৃদ্ধি পায়। ফুলের পাপড়ি থেকে ঝরে পড়া অমৃত ফোঁটার মতো শিশিরকে ইতিবাচক শক্তির প্রতীক ধরা হয়। শুধু ধর্মীয় দিকেই নয়, ব্রহ্মকমল(Brahma Kamal) তার ঔষধিগুণের জন্যও সমাদৃত।

আয়ুর্বেদ মতে, এটি ক্যান্সার, সর্দি, কাশি, ক্লান্তি ও হৃদরোগ নিরাময়ে সহায়ক। শরীরের রক্ত বিশুদ্ধ করতেও এর ভূমিকা রয়েছে। এমনকি সাপের কামড় ও মহামারীর মতো রোগের চিকিৎসায়ও এটি কার্যকরী বলে বিশ্বাস।সৌন্দর্য, আধ্যাত্মিকতা ও চিকিৎসাগত গুণে ভরপুর ব্রহ্মকমল(Brahma Kamal) তাই কেবল একটি ফুল নয়। এটি মানুষের বিশ্বাস, ভক্তি ও দেবতার সঙ্গে এক অলৌকিক সংযোগের প্রতীক। যে বাড়ির আঙিনায় এটি ফোটে, সে বাড়ি হয়ে ওঠে দেবতার আশীর্বাদে ধন্য।
