নিউজ পোল ব্যুরো: ভারত–বাংলাদেশের(India-Bangladesh) কূটনৈতিক সম্পর্ক এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। তবে গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তার অনেকটাই কমে এসেছে। ঠিক এমন সময়ে নতুন উদ্যোগে সামনে এল দিল্লির(Delhi) বাংলাদেশ(Bangladesh) হাই কমিশন। ২০- ২৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ন্যাশনাল ক্র্যাফটস মিউজিয়াম(National Crafts Museum & Hastkala Academy) ও হস্তকলা আকাদেমিতে অনুষ্ঠিত হবে জামদানি শাড়ির(Jamdani saree) প্রদর্শনী ও বিক্রি।

চারদিনব্যাপী এই আয়োজনে বাংলাদেশ হাই কমিশনের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে ভারত সরকারও। ফলে শুধু ব্যবসা নয়, কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও এই আয়োজনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।শাড়ি বরাবরই বাঙালি নারীর কাছে আবেগের বিষয়। তবে উৎসবের মৌসুমে ভারতের অন্যান্য প্রান্তের মহিলারাও সমান আগ্রহে শাড়ি পরেন। দুর্গাপুজো(Durga Puja) থেকে নবরাত্রি, দীপাবলি এ সময় দেশজুড়ে উৎসবের আবহ। তাই জামদানি প্রদর্শনীকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই ক্রেতাদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হবে বলে আশা আয়োজকদের।
আরও পড়ুন: Daily Habits :বিছানা গুছোবেন কীভাবে? ঘুম থেকে ওঠার পর স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের রইল ছোট টিপস

জামদানি শুধু শাড়ি নয়, পাঞ্জাবি, কুর্তা, ওড়নার মতো পোশাক তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়। সম্পূর্ণ হাতে বোনা এই শিল্পকর্ম ২০১৩ সালে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পায়, আর ২০১৬ সালে পায় জিআই ট্যাগ। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কারণে বাংলাদেশি জামদানির কদর সব সময়ই বেশি।

গত বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঢাকায় আন্তর্জাতিক শিল্পমেলায় ভারতীয় প্যাভেলিয়নে ভিড় উপচে পড়েছিল, যদিও বাইরে চলছিল ‘বয়কট ইন্ডিয়া’র ডাক। এই ঘটনাই প্রমাণ করে, দুই দেশের সাধারণ মানুষ সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক বিনিময় এড়িয়ে যেতে চান না। সেই ধারাবাহিকতায় দিল্লিতে জামদানি(Bangladeshi Jamdani saree) প্রদর্শনী নতুন করে আশা জাগাচ্ছে।কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এই আয়োজন শুধু পণ্যের প্রদর্শনী নয়, বরং ভারত–বাংলাদেশ(india-bangladesh)সম্পর্কের বরফ গলানোর এক আন্তরিক প্রয়াস। এখন দেখার বিষয়, দিল্লির সাধারণ মানুষ কতটা সাড়া দেন বাংলাদেশি জামদানিকে(Bangladeshi Jamdani saree)।
