Suvendu Adhikari:নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই কেন্দ্রেই মমতাকে হারানোর চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর, পাল্টা তোপ তৃণমূলের!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল নন্দীগ্রামের মাটি। শনিবার নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে শাসকদল তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে তীব্র আক্রমণ শাণালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আমদাবাদের সুবদী মঙ্গেশ্বরী মন্দিরের সভা থেকে তিনি দাবি করেন, গত নির্বাচনে এই পুণ্যভূমিতে শোচনীয় পরাজয়ের গ্লানি সহ্য করতে না পেরে এবং পুনরায় হারের আতঙ্কে তৃণমূল নেত্রী এবার তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস সঞ্চয় করতে পারেননি। শুভেন্দুর মতে, গতবার ১৯৫৬ ভোটের ব্যবধানে হারের কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিরাপদ আসন হিসেবে ভবানীপুরকে বেছে নিয়েছেন। তবে তিনি নিজেও যে লড়াই থেকে পিছু হটছেন না, তা স্পষ্ট করে দিয়ে শুভেন্দু জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশেই তিনি এবার ভবানীপুরে প্রার্থী হয়েছেন এবং নন্দীগ্রামের পর এবার ভবানীপুরেও মুখ্যমন্ত্রীকে পরাজিত করার সংকল্প নিয়েছেন।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/04/19/mithun-chakraborty-durgapur-roadshow-cut-short-extreme-heat-bjp-campaign/

বিগত নির্বাচনের লড়াইকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু এদিন কটাক্ষের সুরে বলেন যে, গতবার তিনি ‘মালিক’কে হারিয়েছিলেন, আর এবার তাঁর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন স্রেফ এক ‘কর্মচারী’ তথা তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর। নিজের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিরোধী দলনেতা আরও জানান, রাজ্যজুড়ে প্রচারের ব্যস্ততায় তিনি নন্দীগ্রামে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না ঠিকই, কিন্তু এলাকার মানুষের ওপর তাঁর অগাধ বিশ্বাস রয়েছে। জয়ী হওয়ার পর থমকে থাকা রেললাইনের কাজ সম্পন্ন করা এবং বকেয়া থাকা ৪০০ জন ভূমিদাতার কর্মসংস্থানের পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole

শুভেন্দুর এই আক্রমণাত্মক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা তোপ দাগতে দেরি করেনি তৃণমূল কংগ্রেসও। তমলুক সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজিতকুমার রায় এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক হতাশার বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করেছেন। শাসকদলের দাবি, নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—উভয় কেন্দ্রেই শুভেন্দু অধিকারীর পরাজয় এখন সময়ের অপেক্ষা। সুজিতবাবুর মতে, নন্দীগ্রামের মানুষ প্ররোচনায় কান না দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘স্বাস্থ্য শিবির’ বা ‘দুয়ারে সরকার’-এর মতো জনমুখী উন্নয়নের ওপরেই আস্থা রাখবেন। সেই সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করিয়ে দিয়েছে যে, গত নির্বাচনে নন্দীগ্রামে ভোটগণনার সময় লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে কারচুপির যে অভিযোগ উঠেছিল, তা নিয়ে দায়ের করা পিটিশন এখনও আদালতের বিচারাধীন। ফলে শুভেন্দুর সেই জয় এখনও আইনি তর্কের ঊর্ধ্বে নয়। নির্বাচনের ঠিক আগে দুই শিবিরের এই বাকযুদ্ধ বঙ্গরাজনীতিতে অনন্য মাত্রা যোগ করেছে। এখন সকলের নজর আগামী রবিবারের দিকে, যখন নন্দীগ্রামের মাটি থেকে শুভেন্দুর এই আক্রমণের প্রত্যুত্তর দিতে জনসভায় উপস্থিত হবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।