নিউজ পোল ব্যুরো: মানবজীবনে যখনই কোনো অজানা বিপদ ঘনিয়ে আসে, তখন ঈশ্বরচিন্তা ও আরাধনার মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায় মুক্তির পথ। এমনই এক পরম আশ্রয় দেবী বিপত্তারিণী (Bipodtarini Puja)। যিনি বিপদ থেকে রক্ষা করেন, দুর্ঘটনাকে রুখে দেন, আর ভক্তের জীবন ভরিয়ে দেন শান্তি ও কল্যাণে। মা দুর্গারই এক বিশেষ রূপ এই বিপত্তারিণী (Bipodtarini Puja), যার ব্রত পালন করা হয় শ্রাবণ মাসের সোজারথ ও উল্টোরথের (Rath Yatra 2025) মাঝের মঙ্গলবার অথবা শনিবার। বিশেষ করে গৃহস্থ নারীরা স্বামী, সন্তান এবং পরিবারের সুস্থতা ও সুরক্ষার কামনায় পালন করেন এই ব্রত।
আরও পড়ুন: Rath Yatra 2025: ত্রিধারায় রথযাত্রা, খালনার রায়বাড়ির শতাব্দীপ্রাচীন এক অলৌকিক আয়োজন
এই ব্রতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল ১৩ সংখ্যার বিশেষ ব্যবহার। দেবী বিপত্তারিণীর পুজোয় (Bipodtarini Puja) সব কিছুই ১৩ সংখ্যায় নিবেদন করা হয়, যেমন ১৩ রকমের নৈবেদ্য, ১৩ রকম ফল, ১৩টি লুচি, ১৩টি পান, সুপুরি, এলাচ, এমনকি ১৩টি ফুলও নিবেদন করা হয়। এটি শুধুমাত্র একটি আচার নয়, বরং বিশ্বাস করা হয় যে ১৩ সংখ্যাটিই দেবীর পছন্দের সংখ্যা, আর এই সংখ্যা ব্যবহার করলেই মা বিপত্তারিণীর আশীর্বাদ সহজে পাওয়া যায়।
কেন এই ১৩?
শাস্ত্রে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকলেও, লোকবিশ্বাস অনুযায়ী এই সংখ্যাটিই দেবীর আশীর্বাদ, শক্তি ও সুরক্ষার প্রতীক। যেহেতু অন্যান্য বিজোড় সংখ্যার তুলনায় ১৩ সংখ্যাটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়, তাই এই দিনে সব কিছুর পরিমাণ ১৩ রাখাই শুভ মনে করা হয়। এমনকি ব্রতভঙ্গের সময় ১৩টি লুচি খেয়ে প্রসাদ গ্রহণ করাও বাধ্যতামূলক।
পুজোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল হাতে লাল তাগা পরা। মেয়েরা বাঁ হাতে ও ছেলেরা ডান হাতে এই লাল সুতো বাঁধেন, যাতে বাঁধা থাকে ১৩টি গিঁট ও ১৩টি দূর্বাঘাস। লোকবিশ্বাস, এই ১৩টি গিঁটের মধ্যে বিরাজ করেন মা দুর্গার ১৩টি রূপ। এই তাগা কেবল এক টুকরো সুতো নয়, বরং এটি এক অদৃশ্য শক্তির প্রতীক, যা সমস্ত অশুভ শক্তিকে দূরে রাখে ও ভক্তকে সুরক্ষা দেয় সারা বছর।
অনেকে এই তাগা তিন দিন পরে জলাশয়ে ভাসিয়ে দেন, আবার অনেকেই সারা বছর হাতে পরে রাখেন, যেন মা বিপত্তারিণীর কৃপা সদা তাঁদের উপর বিরাজ করে। এই আচারগুলির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে আত্মবিশ্বাস, বিশ্বাস আর ভক্তির এক অপার শক্তি — যা মানুষকে আত্মিকভাবে সাবলম্বী করে তোলে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
