শুভম দে: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। বহু বছরের স্বপ্নপূরণ। যে কোনও বিশেষণই যেন যথেষ্ট নয় আজ বাঁকুড়াবাসীর কাছে বিশেষ করে দক্ষিণ দামোদর সংলগ্ন এলাকার মানুষের কাছে। অবশেষে এক ট্রেনে (Purulia-Howrah Via Bankura-Masagram Train) সোজা বাঁকুড়া, বেলিয়াতোড়, সোনামুখী বা পাত্রসায়ের, রায়না থেকে হাওড়া! বড় সাধের বিডিআর (Bankura Damodar Railway) বহু লড়াইয়ের পর শনিবার সরাসরি পৌঁছাবে হাওড়া।
আরও পড়ুন: Bipodtarini Puja: মা বিপত্তারিণীর পুজোয় কেন পরিধান করা হয় লাল তাগা! তার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য কী?
একটা সময় ‘বড় দুঃখের রেল’ (BDR) নামেই সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত ছিল এই ২ ফুট ৬ ইঞ্চি (৭৬২ মিমি) ন্যারো গেজের রেলপথ। বাঁকুড়া থেকে দামোদর নদের তীরবর্তী রায়নগর গ্রামে দামোদর নদের তীরবর্তী রায়নগর গ্রাম পর্যন্ত যেত বাষ্প ইঞ্জিনে চালিত একটি ট্রেন। সারাদিনে মাত্র এই একটি ট্রেনই যাওয়া-আসা করতো। সকাল সাতটায় বাঁকুড়া থেকে ছেড়ে আবার ১২ ঘন্টা পর ফিরে আসতো বাঁকুড়ায়। দক্ষিণ দামোদর অঞ্চলের মানুষের বর্ধমান, কলকাতা যাওয়ার থাকলে রায়নগর থেকে ফেরি করে দামোদর পেরিয়ে যেতে হত। তাই ব্যঙ্গ করে এলাকার লোক নাম দিয়েছিলেন ‘বড় দুঃখের রেল!’ (Purulia-Howrah Via Bankura-Masagram Train)পরে ধাপে ধাপে ন্যারো থেকে ব্রড গেজ, স্টিম থেকে ডিজেল ইঞ্জিন হয়ে ইএমউ (EMU) — অনেক বিবর্তনের পথ পাড়ি দিয়েছে এই ট্রেন। তৎকালীন বাঁকুড়ার সিপিএম সাংসদ বাসুদেব আচারিয়া, রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে বর্তমান সময়ে বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁর দীর্ঘদিনের লড়াই সবই দেখেছে প্রান্তিক বাঁকুড়ার এই সাধের রেলপথ। প্রথমে বাঁকুড়া থেকে সোনামুখী, পরে আস্তে আস্তে ধাপে ধাপে এগোতে এগোতে মসাগ্রাম পর্যন্ত গড়ায় বিডিআরের চাকা। লক্ষ্য সেই হাওড়া। অবশেষে ছাড়লো জট। কাজ সম্পূর্ণ হয়েছিল আগেই। শুধু বাকি ছিল বাস্তবায়নের।
অবশেষে ৩০ জুন পুরুলিয়া থেকে হাওড়া ভায়া বাঁকুড়া-মসাগ্রাম হয়ে নতুন মেমু ট্রেন (Purulia-Howrah Via Bankura-Masagram Train) পরিষেবা চালু করতে চলেছে দক্ষিণ-পূর্ব রেল। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও বর্ধমান জেলার যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী, এবার থেকে প্রতিদিন এই রুটে চলবে মেমু ট্রেন।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়া থেকে হাওড়া পর্যন্ত চলবে এই নতুন ট্রেন (ট্রেন নং ০৮১২১)। শনিবার উদ্বোধনের দিন পুরুলিয়া থেকে থেকে যাত্রা শুরু হবে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। মসাগ্রাম পৌঁছবে সন্ধ্যা ৭টা ১৭ মিনিট নাগাদ। সেখান থেকে ফের ছেড়ে রাত ৯টা ৩০ মিনিটে হাওড়ায় পৌঁছবে ট্রেনটি। সাঁতরাগাছি থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই নতুন রেল পরিষেবার সূচনা করবেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনি বৈষ্ণব।
শুধুমাত্র উদ্বোধনের দিন পুরুলিয়া থেকে বাঁকুড়া পর্যন্ত (Purulia-Howrah Via Bankura-Masagram Train) — আনারা, আদ্রা, ঝাঁটিপাহাড়ি এবং ছাতনা স্টেশনে থামবে নতুন ট্রেনটি। এরপর বাঁকুড়া থেকে মসাগ্রাম যাত্রাপথে — বেলিয়াতোড়, সোনামুখী, পাত্রসায়ের, বোঁয়াইচণ্ডী, গোপীনাথপুর, রায়নগর এবং মুস্তাফাচকে স্টপেজ রয়েছে। মসাগ্রাম থেকে হাওড়ার পথে স্টপেজ রয়েছে গুড়াপ, কামারকুণ্ডু, জনাইরোড ডানকুনি, বালি, বেলুড় এবং লিলুয়ার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে।
২৯ জুন হাওড়া থেকে বিকেল ৪.১৫ মিনিটে ছেড়ে রাত ১১.৫৫ নাগাদ পুরুলিয়া পৌঁছাবে ফিরতি ট্রেনটি। তবে উদ্বোধনের পর আগামী ৩০ জুন থেকে প্রাত্যহিক চলাচল শুরু হবে এই নতুন মেমু ট্রেনটির। পুরুলিয়া থেকে রোজ ভোরে ৪:০০ টেয় ছেড়ে বেলা ১১.৪০ মিনিট নাগাদ হাওড়া পৌঁছাবে ট্রেনটি। পুরুলিয়া থেকে বাঁকুড়ার মধ্যে থাকছে চারটি স্টপেজ, বাঁকুড়া থেকে মসাগ্রাম পর্যন্ত থাকছে সব স্টপেজ, শেষে মসাগ্রাম থেকে হাওড়া পর্যন্ত থাকছে ১২টি স্টপেজ। ফেরার পথে হাওড়া থেকে বিকেল ৪.১৫ মিনিটে ছেড়ে রাত ১১.৫৫ মিনিটে পুরুলিয়া পৌঁছাবে ৬৮১২১ হাওড়া-পুরুলিয়া ভায়া বাঁকুড়া-মসাগ্রাম মেমু।
রেল আধিকারিকদের দাবি, এই নতুন ট্রেন (Purulia-Howrah Via Bankura-Masagram Train) পরিষেবা চালু হওয়ায় সময় ও খরচ দুই-ই সাশ্রয় হবে যাত্রীদের। এতদিন বাঁকুড়া থেকে ভায়া মসাগ্রাম হাওড়া পৌঁছাতে যাত্রীদের মসাগ্রামে ট্রেন পরিবর্তন করতে হত। এবার সেই অসুবিধা মিটবে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব চ্যানেলের লিংক: https://youtube.com/@thenewspole?si=To_DNFD6UuUTbN5e
উদ্বোধনের দিন সকাল থেকেই বাঁকুড়া, সোনামুখী, পাত্রসায়ের সহ বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা গিয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন এবং বাঁকুড়া দামোদর রিভার রেলওয়ে পরিবহন ওয়েলফেয়ার সমিতির পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্টেশনে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ছোট অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রেল সূত্রে খবর যাত্রী চাহিদা থাকলে ভবিষ্যতে এই রুটে আরও ট্রেন বাড়ানো হতে পারে।
