নিউজ পোল ব্যুরো: আষাঢ়ের বৃষ্টিকে তুচ্ছ করে পুজো(Bonedi Durga Puja 2025) মঞ্চে চলছে শেষ মুহূর্তের টানটান প্রস্তুতি। কোথাও থিমের নকশা আঁকা হচ্ছে, কোথাও আবার প্যান্ডেলের খুঁটিনাটি সাজানোয় ব্যস্ত শিল্পীরা। বছরে একবার মা আসেন বাপের বাড়ি, তাই তো উৎসবকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। বনেদি বাড়ির সদস্যদেরও যেন দম ফেলার সময় নেই। আগমনির ঘন্টাধ্বনি শোনা যাচ্ছে চারপাশে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার(South 24 Parganas) সরিষার বসুবাড়িতেও(Sarisha Basu Bari)সেই একই ছবি প্রস্তুতি চলছে দিনরাত এক করে, ঐতিহ্যের পুজোকে আরও বিশেষ করে তোলার জন্য।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার(South 24 Parganas) সরিষা গ্রামে বসুবাড়ির(Sarisha Basu Bari) দুর্গাপুজো(Durga Puja 2025) শুধুমাত্র একটি পূজা নয়, বরং এক প্রাচীন ইতিহাস ও আবেগের অমূল্য সম্পদ। প্রায় ৩১২ বছরের পুরনো এই পুজো শুরু হয়েছিল অষ্টাদশ শতকে, যখন শ্রীরাম বসু জমিদার জয়চন্দ্র মিত্রের কন্যা রম্ভাবতীর সঙ্গে বিবাহসূত্রে যুক্ত হন। সেই সময় থেকেই বউকে বাপেরবাড়ি পাঠানোর পরিবর্তে বসুবাড়িতেই দুর্গাপুজোর সূচনা হয়। পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক বিস্ময়কর কাহিনি। একসময় এখানে ছাগবলি দেওয়া হত। কিন্তু দৈববাধায় একবার বলি বন্ধ হয়ে গেলে শতদলবাসিনী বসু নিজের শরীরের রক্ত দিয়ে দেবীকে পুজো দেন। সেই দিন থেকেই ঠিক হয় এ পুজোয় আর কোনও প্রাণহানি হবে না। আজও সেই রীতি অটুট।
এখানে দেবীর বোধন হয় পরিবারের এক প্রাচীন পুঁথি পাঠ করে, যা শুধু পরিবারের প্রবীণ সদস্যরা পুরোহিতের হাতে পৌঁছে দেন। ষষ্ঠীর বেলতলায় ঘটপুজো থেকে দশমীর সিঁদুরখেলা পর্যন্ত প্রতিটি অনুষ্ঠান হয় বংশানুক্রমিক রীতিতে। প্রতিমা গড়া থেকে পুরোহিতের কাজ সবই বসু পরিবারের উত্তরাধিকারের অংশ।
অগ্নিমূল্যের বাজারে আজ পুজোর জাঁকজমক কিছুটা ম্লান হলেও উৎসবের আনন্দ অক্ষুণ্ণ। চারদিন ধরে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, উপাচার সাজানো, সন্ধ্যারতি দেখা কিংবা প্রতিমা বিসর্জনের পর মিষ্টিমুখ সবই মিলেমিশে সৃষ্টি করে পারিবারিক মিলনমেলার আবহ। সরিষা বসুবাড়ির দুর্গাপুজো তাই শুধু পূজা নয়, গ্রামবাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অনন্য দলিল।
