Mamata Banerjee: তদন্তের মাঝেই ক্রীড়াদপ্তর মমতার হাতে, ইস্তফা গৃহীত হল অরূপের

কলকাতা রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: ক্রীড়ামন্ত্রী পদ থেকে অরূপ বিশ্বাসের (Aroop Biswas) পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির (Lionel Messi) অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার ঘটনার পর নৈতিক দায়িত্ব স্বীকার করে নিজেই অব্যাহতির আবেদন জানিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস। সেই আবেদন মেনে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) তাঁকে ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব আপাতত নিজেই সামলাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন:ভোটার তালিকায় গলদ! বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ায় কলকাতায় সিইও দপ্তরের সামনে বিক্ষোভে BLO-রা

সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীকে (Mamata Banerjee) লেখা চিঠিতে অরূপ বিশ্বাস উল্লেখ করেন, ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসির আগমন ঘিরে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। সেই তদন্তে কোনও রকম প্রভাব পড়ুক, তা তিনি চান না বলেই স্বেচ্ছায় ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন অরূপ বিশ্বাস। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছেন। তবে অরূপ বিশ্বাস রাজ্যের বিদ্যুৎ দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবেই বহাল থাকছেন। ওই দপ্তরের দায়িত্ব তিনি আগের মতোই সামলাবেন বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ ডিসেম্বর ‘গোট ট্যুর’-এর অংশ হিসেবে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে উপস্থিত হয়েছিলেন লিওনেল মেসি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো ডি পল। কিন্তু হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও বহু দর্শক মাঠে মেসিকে দেখতে না পাওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারি থেকে বোতল ছোড়া হয়, ব্যানার ভাঙচুর করা হয় এবং ব্যারিকেড ভেঙে মাঠে ঢুকে পড়ে উত্তেজিত জনতা। সেই সময় মেসির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।

এই ঘটনার পর রাজ্য সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে মেসি ও দর্শকদের কাছে ক্ষমা চান এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়ের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সেই কমিটি দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে।প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে একাধিক কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সিট গঠন করা হয়েছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুকেশ কুমার এবং যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তরের সচিব রাজেশ কুমার সিনহাকে শোকজ করা হয়েছে। বিধাননগরের ডিসি অনীশ সরকারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সিইও দেবকুমার নন্দনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়াও মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত বর্তমানে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole