নিউজ পোল ব্যুরো: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫। ভারতীয় সঙ্গীতের মহীরুহ ভূপেন হাজারিকার (Bhupen Hazarika) জন্মশতবর্ষের সূচনা। গানকে তিনি কেবল সুরের খেলা বা বিনোদনের উপাদান হিসেবে দেখেননি, বরং মানুষের সংগ্রাম, আশা, ভালবাসা এবং প্রতিবাদের ভাষায় রূপান্তর করেছিলেন। এক সময় উত্তর-পূর্ব ভারতের মাটির সুরকে সমগ্র দেশের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সেতু হয়ে উঠেছিলেন তিনি। শতবর্ষ পূর্তির এই দিনে শিল্পী, সুরকার ও গীতিকার শিলাজিৎ মজুমদার (Shilajit Majumder) মনে করালেন, ভূপেন হাজারিকার প্রভাব এখনও আমাদের মধ্যে বেঁচে আছে।
শিলাজিতের (Shilajit Majumder) কথায়, কোনও শিল্পধারা কখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায় না। তা শ্রোতাদের মনে, স্রষ্টাদের ভেতরে থেকে যায়, অচেতনভাবে লালিত হয়। তিনি বলেন, “আজও আমি ছোটবেলায় শোনা ভূপেনবাবুর গান গুনগুন করি। না শিখেও শুনে ফেলেছি, তবুও মনে রয়ে গিয়েছে। সুতরাং তাঁর সঙ্গীতধারা নিশ্চয়ই কোথাও না কোথাও ধরে রেখেছি আমরা।”
ভূপেন হাজারিকার (Bhupen Hazarika) গানে যে প্রতিবাদী সুর পাওয়া যায়, তা নিয়েও মত দিয়েছেন শিলাজিৎ। তাঁর মতে, কেবল প্রতিবাদ নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে শোষিত মানুষের বেদনা ও লড়াইকে ব্যালাডের মতো করে তুলে ধরেছিলেন শিল্পী। গানগুলিতে তৎকালীন সমাজবাস্তবতার প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট। তিনি বলেন, “‘ও গঙ্গা বইছ কেন’ কিংবা ‘দোলা’র মতো গান আজও শোনালে সেই প্রতিবাদের সুর কানে ভেসে আসে।”
তবে ছোটবেলায় ভূপেন হাজারিকার (Bhupen Hazarika) গান শোনার অভিজ্ঞতা অন্য রকম ছিল। শিলাজিৎ বলেন, “আমরা তখন প্রতিবাদ বা সামাজিক বক্তব্য বুঝিনি। কেবল গান ভাল লেগেছে, তাই শুনেছি। অথচ সেই গানগুলিই আজও মনে গেঁথে আছে। এর মধ্যেই বোঝা যায়, তাঁর কম্পোজিশন ও কথার শক্তি কতটা প্রবল ছিল।”
শিল্পীর মতে, ভূপেন হাজারিকার সঙ্গীত কেবল বার্তা বহন করেনি, একইসঙ্গে শ্রোতাকে তাৎক্ষণিক আনন্দ দেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তাঁর সৃষ্টিতে। ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁর গান সমানভাবে উপভোগ্য থেকেছে। শিলাজিৎ মনে করিয়ে দিলেন, শতবর্ষ পরে আজও যদি তাঁকে নিয়ে আলোচনা হয়, তবে তা-ই প্রমাণ করে যে তাঁর উত্তরাধিকার অমোঘ।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
