Durga Puja 2025:লন্ডনের আকাশে বাজে ঢাক, ডক্টরদের উদ্যোগে প্রবাসে দুর্গাপুজো

আন্তর্জাতিক কলকাতা শহর সংস্কৃতি

সুমনা আদক, লন্ডন: শরৎ মানেই দুর্গাপুজো (Durga Puja 2025)। কলকাতার অলিগলি থেকে শুরু করে মফস্বল, ঢাকের তাল (Dhak Beats), ধূপের ধোঁয়া (Incense Smoke) আর ভোগের সুবাস (Bhog Prasad) ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আবহে। সেই আবেগ আর আমেজ আটকে নেই কেবল বাংলার মাটিতে, পৌঁছে গেছে বিদেশে। হাজার মাইল দূরে লন্ডনের (London) বুকে আজও একই রঙ, একই আবেগ ছড়িয়ে দেয় Bengali Cultural & Social Club-এর দুর্গাপুজো, যা প্রবাসী বাঙালির গর্ব ও লন্ডনের সমাজজীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।

২০০০ সাল, আটজন সংস্কৃতিপ্রেমী ডাক্তার—ড. চিত্ত চৌধুরী, ড. অরুন সরকার, ড. ভির নেভরাজানি ও মিসেস জয়ন্তী নেভরাজানি, মি. নির্মল লালা, ড. দাস, গৌতম চৌধুরী, ড. সুনীল গাঙ্গুলি ও ড. সুবোধ চ্যাটার্জি—একসাথে বসে স্বপ্ন দেখলেন। ভাবনা ছিল সহজ—“নিজেদের হাতে কেন না দুর্গাপুজো শুরু করা যায়?” সেই চিন্তাই বাস্তব হয়ে উঠল। ডাক্তারদের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই উৎসব পরিচিতি পেল ‘ডক্টরদের পুজো’ (Doctors’ Puja) নামে।

আরও পড়ুন: Weather Update: পুজোর আনন্দে বৃষ্টি ভোগান্তি? দক্ষিণবঙ্গকে সতর্ক করল আবহাওয়া দফতর

প্রথম বছরেই সেক্রেটারির দায়িত্ব নেন ড. অরুন সরকার। চিকিৎসার ব্যস্ততার মাঝেও তিনি দিনরাত খেটেছেন—প্যান্ডেল সাজানো (Pandal Decoration), ঢাকের আয়োজন, ভোগের ব্যবস্থা (Community Feast)—সবকিছুতেই যুক্ত ছিলেন আন্তরিকভাবে। সেই বীজ থেকেই ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে এই পূজা।

আজ প্রায় ২৬ বছরের (26 Years of Celebration) ইতিহাসে এটি পরিণত হয়েছে লন্ডনের অন্যতম জনপ্রিয় দুর্গাপুজোতে। প্রতিবছর হাজারো মানুষ এখানে ভিড় জমান। বর্তমান সভাপতি চিত্ত চৌধুরীর কথায়—“আমাদের পুজো শুধু দেবীর আরাধনা নয়, বরং একসাথে থাকার শক্তি। আমরা কেউ ডাক্তার, কেউ শিক্ষক, কেউ ব্যবসায়ী (Professionals in London), কিন্তু দুর্গাপুজো আমাদের একসূত্রে বেঁধে রাখে।”

প্রতিবছর মণ্ডপ সাজানো হয় কলকাতার আবহে (Kolkata Theme). অঞ্জলি, সিঁদুরখেলা (Sindoor Khela), ধুনুচি নাচ (Dhunuchi Dance), গান, আবৃত্তি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর খাবারের আয়োজন—সব মিলিয়ে যেন ছোট্ট কলকাতা। ঢাকের শব্দে মুখরিত হয় লন্ডনের আকাশ, খিচুড়ি-লাবড়ার (Khichuri Labra) গন্ধে ভরে ওঠে পরিবেশ। শিশুরা নিজেদের ঐতিহ্য শেখে, তরুণরা খুঁজে পায় আনন্দের মঞ্চ (Youth Stage), প্রবীণরা ফিরে পান স্মৃতির কলকাতা। শুধু বাঙালিরাই নয়, ভারতীয় উপমহাদেশের নানা প্রান্তের মানুষ এবং অনেক ব্রিটিশও যোগ দেন এই উৎসবে। ফলে এটি এক বহুসাংস্কৃতিক উৎসব (Multicultural Festival), যেখানে ধর্ম ছাড়িয়ে সৌহার্দ্য ও মিলনের বার্তা ছড়ায়।

এই দীর্ঘ যাত্রা প্রমাণ করেছে—দুর্গাপুজো কেবল আচার নয়, এটি আবেগ (Emotion), এটি পরিচয় (Identity)। নতুন প্রজন্মের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে শিকড়ের গল্প, আর প্রবীণরা ফিরে পাচ্ছেন সেই হারিয়ে যাওয়া কলকাতাকে। লন্ডনের মাটিতে প্রতিটি ঢাকের তাল, প্রতিটি ধুনুচির ধোঁয়া, প্রতিটি ভোগের স্বাদ যেন মনে করিয়ে দেয়—যেখানেই বাঙালি আছে, সেখানেই শরৎ ফিরে আসে কলকাতার রঙে।