একটা প্লেন যখন এক দেশ থেকে অন্য দেশে যায় তখন গড় গতিবেগ থাকে 7০০ কিলোমিটার। আর উচ্চতা থাকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার ফিট । যেখানে তাপমাত্রা থাকে মাইনাস 40 থেকে 50 ডিগ্রি । আর মাটির ওপরে 10 হাজার ফুটের উপরে ক্রমশ কমতে থাকে অক্সিজেনের পরিমাণ। এই পরিবেশে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়া, কিংবা ফুসফুস ফেটে যাওয়া কিছুমাত্র বিচিত্র নয়। এই সব কিছুর জ্ঞান কাবুলের ছেলেটির ছিলনা। ছেলেটির(KabulBoy) শখ ছিল একবার অন্য দেশ দেখতে যাবে। আফগান দেশের এই একরত্তি ছেলে সম্প্রতি মানে 21 সেপ্টেম্বর মাসে কাবুল এয়ারপোর্ট চলে আসে। তারপরের ঘটনাটা একটু পরে জানাচ্ছি।
দিল্লীর বিমানবন্দরে অল্প যাত্রীর একটি এয়ারবাস (Airbus A340)সকালে মাটি ছোঁয়ার পরে গ্রাউন্ড স্টাফদের একজন প্লেনের চাকার কাছে এক বালককে দেখতে পেয়ে দৌড়ে যায়। তারপরে জানতে চায় যে ছেলেটি এখানে কি করে এল। ছেলেটি মাথার উপর প্লেনটা দেখিয়ে দিল আর বলল যে সে এই প্লেনে করে এসেছে। শুনে স্টাফ আরও অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করে। প্লেনের দরজা তো এখনও খোলেই নি। ছেলেটি কেমন করে বাইরে এল। তখন স্টাফকে আরও অবাক করে ছেলেটি জানাল যে সে প্লেনের ওই জায়গায় বসে এসেছে। বলে যে জায়গাটা দেখাল তা দেখে এবার স্টাফের চক্ষু চড়কগাছ। সেটা চাকার ল্যান্ডিং গিয়ার (landingGear)স্পেস। যেখানে একটা মানুষ তো কোন রকমে ঢুকতে পারবে, কিন্তু সেই অবস্থায় ভ্রমণ এক কথায় অকল্পনীয়। এবার গ্রাউন্ড স্টাফের অবস্থা খারাপ। তবু তিনি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালেন। তারপরে ছেলেটির ডাক্তারি পরীক্ষা করা হল। এল গোয়েন্দা বিভাগের লোক। তারাও ছেলেটিকে নানাভাবে জেরা করলেন। যখন ওই কাবুলবাসির কোন ক্ষতিকর বাজে উদ্দেশ্য পাওয়া গেল না। তখন তাঁরা কাবুলের সাথে যোগাযোগ করেন। এমনকি ছেলেটির বাড়ির লোকের সাথেও কথা বলা হয়। তারাও বাড়ির ছেলের নিখোঁজে ইতিমধ্যেই ছিলেন চিন্তিত। তখন ছেলেটিকে কিছু উপহার দিয়ে ফিরতি প্লেনে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হল। এবার প্লেনের ভিতরে, সিটে বসে। কোন আন্তর্জাতিক কেস না করেই এযাত্রা তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এরকম ব্যতিক্রমী ঘটনা কিন্তু পৃথিবীতে প্রথম নয়। 1947 সাল থেকে এই 2025 পর্যন্ত মোটামুটি 132 জনের এক দেশ থেকে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার ইতিহাস রয়েছে। এই যাওয়ার পিছনে প্রধানত গরিবি আর দাসত্বকে কারণ হিসেবে পাওয়া যায়। দুই চাকায় ল্যান্ডিং গিয়ারে বসে একবার দুই যুবক আমেরিকায় পাড়ি দিয়েছিলেন। একজনের পথেই মৃত্যু হয়। অপরজনকে পরে আমেরিকা সে দেশের নাগরিকত্ব দেয়। তবে এরকম সৌভাগ্য হয়না বেশিরভাগ মানুষেরই। 132 জনের মধ্যে 75–77% শতাংশ মানুষ মারা গেছেন।(DeathJourney)32 জনের জীবিত থাকার খবর পাওয়া গেছে। যার সব শেষে যুক্ত হল এই কাবুলের কিশোর।
