নিউজ পোল ব্যুরো: উত্তরাখণ্ডের (Uttarakhand) উত্তর প্রান্তে নন্দাদেবীর (Nanda Devi) কোলে লুকিয়ে থাকা এক বিস্মৃত গ্রাম মর্তোলী (Mortholi)। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বাইরের দুনিয়ার চোখের আড়ালে থেকে এই গ্রাম আজও যেন কুমারী প্রকৃতির মতো সুন্দর জিনিস ধরে রেখেছে। ১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধের (India-China War 1962) সময় খালি হয়ে যাওয়া এই গ্রামে তখন থেকে শুধু পাহাড়ি হাওয়া ঘুরে বেড়িয়েছে মানুষের চিহ্ন মিলত না।

দিগন্ত জোড়া তৃণভূমি, শস্যভরা খেত, সবুজে ঘেরা উপত্যকা আর যৌবনবতী নারীর মতো ছুটে চলা পাহাড়ি ঝরনা সব মিলে যেন এক পরীর দেশ। সেই মর্তোলীতে (Mortholi Valley Trek) এখন ধীরে ধীরে ফিরছে জীবনের ছোঁয়া। বহুদিনের পর গ্রামবাসীরা ফিরে আসছেন, আর সেই সঙ্গে পাহাড় পেরিয়ে আসছে পর্যটকদের ভিড়। ছোট গাড়ির টায়ারের শব্দ আর তরুণ ট্রেকারদের পায়ে পায়ে আবার জেগে উঠছে এই জনপদ।
আরও পড়ুন:QR Code: ফোনে এক স্ক্যান, মুহূর্তে পেমেন্ট! কিউআর কোডের পেছনের বিজ্ঞান জানেন?
জোহর উপত্যকার (Johar Valley) এই গ্রাম থেকে চোখ তুলে দেখলেই মনে হয় যেন নন্দাদেবীর শৃঙ্গ ছুঁয়ে ফেলা যাবে। অতীতে এখানে ছিল প্রাণচঞ্চল জনবসতি। এখন গুটিকয় পুরনো পাথরের ঘর যেন সাক্ষ্য দিচ্ছে ধ্বংসপ্রাপ্ত এক সময়ের। শীতে এখানকার বাসিন্দারা সমতলে নেমে চিনি, ডাল, মশলা ও পোশাক বিক্রি করতেন, আর গ্রীষ্মে পাহাড়ে ফিরে এসে নুন ও উল কিনতেন সবই হত বিনিময় পদ্ধতিতে (barter system)।

ভারত-চিন যুদ্ধের পর এই বাণিজ্য পথ বন্ধ হয়ে গেলে মানুষ জীবিকার খোঁজে থল (Thal) গ্রামে নেমে যান। এরপর মর্তোলী ও আশপাশের বহু গ্রাম জনশূন্য হয়ে পড়ে। এখন ৭৭ বছর বয়সে কিষেন সিং (Kishen Singh) প্রতি গ্রীষ্মে ফিরে আসেন পৈতৃক ভিটেতে। নিজের হাতে কালো জিরা (Black cumin), স্ট্রবেরি (Strawberry), কুটকি (Kutki) চাষ করে গাধা ও খচ্চরের পিঠে করে সেগুলি বিক্রি করতে নিয়ে যান সমতলে। তার পথ ধরেই ধীরে ধীরে আরও অনেক গ্রামবাসী ফিরছেন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
সাম্প্রতিক সময়ে একটি কাঁচা রাস্তা (offroad route) তৈরি হওয়ায় ট্রেকিং (Trekking in Uttarakhand) ও পিকনিক করতে পর্যটকরা সহজে এই অঞ্চলে আসতে পারছেন। পুরনো পাথরের ঘরের মাঝখানে তৈরি হয়েছে নতুন একটি গেস্ট হাউস (Guest House)। নন্দাদেবী বেস ক্যাম্প (Nanda Devi Base Camp) যাওয়ার পথে ট্রেকারদের এখানে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

পর্যটন (Tourism) ধীরে ধীরে এই গ্রামে নতুন প্রাণের সঞ্চার করছে। স্থানীয়রাও থাকাখাওয়ার ব্যবস্থা করে রোজগারের সুযোগ পাচ্ছেন। শুধু পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ (Electricity), পানীয় জল (Drinking water) ও পরিকাঠামো (Infrastructure development) পেলে এই অঞ্চলের পর্যটন আরও বিকশিত হতে পারে। হারানো গ্রাম মর্তোলী আজ আবার যেন নতুন করে বাঁচতে চাইছে পাহাড়ের কোলে এক আশ্চর্য পুনর্জন্মের গল্প লিখছে।
