নিউজ পোল ব্যুরো: আমজনতার জীবনে প্রতিদিনই আরও গভীরভাবে জায়গা করে নিচ্ছে কিউআর কোড (QR Code Technology)। ডিজিটাল ভারতের যুগে (Digital India), আজ প্রায় প্রতিটি মানুষই এই প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত। দোকান, রেস্তরাঁ, মেট্রো স্টেশন, এমনকি রাস্তার ধারে ছোট ব্যবসায়ী—সব জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে সেই পরিচিত কালো-সাদা চতুষ্কোণ কোড। শুধু মোবাইল ফোন (Mobile Phone) হাতে থাকলেই এখন সহজে করা যাচ্ছে ডিজিটাল পেমেন্ট (Digital Payment)।

কিউআর শব্দটির পুরো রূপ হল ‘কুইক রেসপন্স’ (Quick Response)। নামেই এর কাজের ইঙ্গিত লুকিয়ে আছে—মাত্র কয়েক সেকেন্ডে স্ক্যান (Scan) করেই সম্পন্ন হয় লেনদেন। কোনো কার্ড বা নগদ টাকার ঝামেলা ছাড়াই গ্রাহক নিজের ফোনের ক্যামেরা দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করে বিল পরিশোধ করতে পারেন। এর ফলে সময় বাঁচে, নিরাপত্তাও বৃদ্ধি পায়। কিউআর কোড প্রযুক্তি মূলত দুটি অংশে কাজ করে—একটি ডেটা এনকোডিং (Data Encoding) এবং অপরটি ডেটা ডিকোডিং (Data Decoding)। স্ক্যানার বা ফোনের অ্যাপ (App) সেই কোডটি পড়েই প্রয়োজনীয় তথ্য উদ্ধার করে নেয়।
আরও পড়ুন:Weather update : লেপ-কম্বল নিয়ে প্রস্তুত হন! দক্ষিণবঙ্গে শীত কবে থেকে শুরু হবে, জানুন আবহাওয়ার খবর
যদি ভালো করে লক্ষ্য করা যায়, তবে বোঝা যাবে প্রতিটি কিউআর কোডের ভিতরে থাকে তিনটি ছোট চতুষ্কোণ ব্লক (Alignment Squares)। এগুলিই কোডটির অবস্থান বা অ্যালাইনমেন্ট (Alignment) সঠিক রাখে, যাতে যেকোনো দিক থেকে স্ক্যান করলেও তা সহজে পড়া যায়। ফলে ব্যবহারকারী কোডটিকে বাঁকা, উল্টো বা পাশ ঘোরানো অবস্থাতেও স্ক্যান করতে পারেন—এটাই কিউআর কোডের অন্যতম বড় সুবিধা। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিউআর কোড হল বারকোডের (Barcode) উন্নত সংস্করণ (Upgraded Version)। বারকোডে থাকে এক লাইনে সাজানো কিছু কালো দাগ ও ফাঁকা জায়গা, যেখানে লুকিয়ে থাকে একটি সংখ্যাতাত্ত্বিক তথ্য (Numeric Data)। সেটি স্ক্যান করলে নির্দিষ্ট পণ্য বা পরিষেবার পরিচয় জানা যায়। কিন্তু কিউআর কোডে সংরক্ষণ করা যায় আরও অনেক বেশি তথ্য—যেমন ওয়েবসাইট লিঙ্ক (Website Link), পেমেন্ট অ্যাড্রেস (Payment Address), প্রোডাক্ট ডিটেলস (Product Details) ইত্যাদি।

আজকের দিনে মেট্রো রেলের টিকিট থেকে শুরু করে রেস্তরাঁর মেনুকার্ড, হাসপাতালের বিল, এমনকি স্কুলের ফি—সব ক্ষেত্রেই ব্যবহার হচ্ছে এই স্মার্ট প্রযুক্তি। এটি শুধু অর্থনৈতিক লেনদেন নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। কিউআর কোড প্রযুক্তি (QR Code System) নিঃসন্দেহে আধুনিক সমাজকে আরও দ্রুত, সহজ ও নিরাপদ করেছে। ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) ও আইওটি (IoT)–এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই প্রযুক্তি আরও বহুমুখী হয়ে উঠবে—এমনটাই মনে করছেন প্রযুক্তিবিদরা।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
