Retail market : অনলাইন রিটেলের চাপে ভাতৃদ্বিতীয়ার বাজারে মন্দা

oftbeat ব্যবসা-বাণিজ্য

নিউজ পোল বাংলাঃ বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। উৎসব এলেই বাড়িতে ভুরিভোজের আয়োজন। বাড়িতে ভাই-বোন ,কাকা, কাকির সমাগম। এই সময় বাঙালি মধ্যবিত্তের খাওয়া দাওয়ার ধরণ-ধারণও বদলে যায়। বেশ একটা জম্পেশ খাদ্য ভাণ্ডারে খাওয়ার টেবিল কিংবা মাটির শতরঞ্জি ভরে ওঠে। কিন্তু সে সব যে ঘরের মেয়েরাই রেধেছে এমন কথা বলা যাবেনা।। লুসিফার থেকে পাঁচ মিনিটের অপেক্ষার বিজ্ঞাপন , ছয়লাপ সেই বিজ্ঞাপনের ইশারায় ইতিমধ্যেই বদলে গিয়েছে কেনাকাটার সমীকরণ। অনলাইনের দশচক্রে ভগবান ভূত হয়ে ক্রেডিবিলিটি নিয়ে নিয়ে ঘরের রান্না। কিন্তু মুঠোফোনের এক ক্লিকে টেবিলে চলে আসার ধাক্কায় উঠে যেতে বসেছে আশেপাশের প্রতিবেশী দোকানগুলি। সারাদিন ধরে মশা- মাছি তাড়িয়ে দিনের মজুরী তুলতে না পারা দোকানিদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সহজ সমাধানের এই সাপ্লাই আর জোগানের ধাক্কায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ঝাঁপের লাঠি। ফলে সেই উৎসবই এখন অনেকের মুখে হাসি আনতে পারছে না। খুচরো ব্যবসায়ীদের মুখে মন্দার সুর।

[আরও পড়ুন] http://পেনশন সরলীকরণ – একটি সমালোচনা ও বিশ্লেষণ।

ভাতৃদ্বিতীয়ার বাজারেও তেমন বেচাকেনা নেই। দোকান খোলা থাকলেও, ক্রেতার আনাগোনা আগের মতো নেই বলেই জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘ ২০, ৩০ এমনকি ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যবসায়ীরা বলছেন, “আগে ভাইফোঁটার আগের দিন দোকানে দাঁড়ানোর ফুরসত থাকত না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যবসা করেই মাসের খরচ উঠে যেত। এখন আর সেই অবস্থা নেই।”কারণ হিসেবে তারা দেখছেন মূল্যবৃদ্ধি, অনলাইন শপিং ও মাল্টিন্যাশনাল রিটেল চেইনের দৌরাত্ম্য। এক ব্যবসায়ীর কথায়, “মানুষ এখন মোবাইলে অর্ডার করছে। বাজারে আসছে না। দামও এমন বেড়েছে যে অনেকে আর আগের মতো কেনাকাটা করছে না।”এই মন্দা পড়েছে কাঁচা বাজারেও। মাছ-মাংস থেকে শুরু করে তরকারির ঝুড়ি — সর্বত্রই দাম বাড়ার ছাপ। খুচরো মুদিখানার ব্যবসায়ীরাও একই সুরে বলছেন, “এখন লোক আছে, উৎসবও আছে, কিন্তু ব্যবসা নেই।”তবে আশার আলো দেখা যাচ্ছে ডিমের বাজারে। এক ডিম ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, “মানুষ এখন মাছ মাংসের বিকল্প হিসেবে বেশি করে ডিম খাচ্ছে। সেই কারণেই বিক্রি কিছুটা বেড়েছে।” ঘোড়ার ডিম সেই সান্ত্বনায় বাকি ব্যবসায়ীদের চিড়ে ভিজছে না। সব মিলিয়ে, উৎসবের মরসুমে যখন আনন্দ আর কেনাকাটায় মাতোয়ারা থাকার কথা, তখন মূল্যবৃদ্ধি আর অনলাইন রিটেলের চাপে মুখ ভার ব্যবসায়ীদের। এক সময়ে যারা প্রতিবেশী খদ্দেরকে পাত্তা দিতেন না, ইচ্ছামত চড়া দাম নিতেন- এখন তাঁরাই অন্ধের যষ্টির মত ক্রেতাদের শুধু লক্ষ্মী রূপে নয়, গণেশ, কার্ত্তিক এমনকি সরস্বতী রূপেও দেখছেন। কিন্তু এমন অসুরের ভূমিকাই যে প্রথম পছন্দের হবে তা কে জানত। এখন দেখার বিষয় বোনেদের হাত ধরে পাড়ার ভাইদের ব্যবসার সুদিন ফেরে কিনা। কীভাবে এই কঠিন সময় পেরিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আবার ঘুরে দাঁড়ায় দেখা যাক।