Editorial: পেনশন সরলীকরণ – একটি সমালোচনা ও বিশ্লেষণ।

সম্পাদকীয়

 

নিউজ পোল ব্যুরোঃ   ইপিএফ(EPFO)শব্দটি সাধারণ কর্মজীবী মানুষের কাছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সারা জীবনের কাজের ফলাফল নিহিত যে সংস্থার হাতে তার নাম ভবিস্য নিধি। বর্তমানে সেই ভবিস্যনিধির টাকা তোলার কিংবা সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তুলে নেওয়ায় এখনও সহজতর হয়েছে টাকা তোলা। এটা এক দিকে যেমন সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে সাহায্য করেছে। পাশাপাশি সামনে এসেছে এক কঠিন প্রশ্ন। এই কি ভাল নাকি খারাপ। একটু বিষয়টি তুলে ধরে নাগরিকের তাৎক্ষণিক আর্থিক স্বাধীনতা বনাম দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার দ্বন্দ্ব বিশ্লেষণ করে দেখা যাক। পেনশনের(EPFO)টাকা সম্পূর্ণ তোলা—স্বাধীনতা না অনিরাপত্তা? পুরো টাকা একসঙ্গে তোলার অনুমতি দিয়েছে। অর্থাৎ অবসরের পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা না করেই এখন একজন কর্মী চাইলে সমগ্র সঞ্চিত অর্থ তুলে নিতে পারবেন।
[আরও পড়ুন]  http://প্রদীপের নীচে নয়, সবটাই এখনও অন্ধকারে।
প্রথম দর্শনে এই সিদ্ধান্তকে স্বাধীনতার বাড়তি সুযোগ হিসেবে দেখা যায়—অবসরের বয়সে নিজের জীবনের পরিকল্পনা নিজের হাতে নেওয়ার এক প্রায় পূর্ণ ক্ষমতা। বহু মানুষ, যাদের হঠাৎ চিকিৎসা খরচ, ঋণ বা পারিবারিক দায় রয়েছে, তাদের কাছে এই সুযোগ নিঃসন্দেহে এক (EPFO)স্বস্তির নিঃশ্বাস। কিন্তু অন্য দিকটিও কম জটিল নয়। অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে পেনশন মূলত একপ্রকার সামাজিক সুরক্ষা বর্ম—একটি নিয়ন্ত্রিত, দীর্ঘমেয়াদি আয় যা অবসর উত্তর জীবনে স্থিতি ও নিশ্চয়তা আনে। পুরো টাকা তুলে নেওয়ার অনুমতি অনেক সময় সেই স্থায়িত্বকে বিপদে ফেলতে পারে। অর্থ ব্যয়ের অনিয়ম, ভুল বিনিয়োগ, বা প্রতারণার আশঙ্কা — এই সবই অবসরের পর একজন নাগরিকের আর্থিক স্থিতিকে অনিশ্চিত করতে পারে। আরও গভীরভাবে বলতে গেলে, এই নীতির ফলে দেশের সঞ্চয়ের ধারা অস্থির হতে পারে। কিন্তু এখানেই প্রশ্ন- হঠাৎ করে কেন কেন্দ্রীয় প্রশাসন এতটা উদারতার পথে গেলেন। এর পিছনে যে সহজ মোটিভেশন রয়েছে তা খুবই পরিস্কার। আগে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বিভিন্ন কাজে পেনশনের গচ্ছিত টাকা অবাধে খরচ করা যেত। এখন পেনশন সংস্থা(EPFO)স্বশাসিত হয়ে গেছে। ফলে চাইলেই আর সেই টাকা খরচ করা সম্ভব নয়। এখন যে টাকা কেন্দ্রের হাতে থেকেও কোন লাভ নেই। যদি কিছু লাভ থেকে থাকে সেটা পেনশন সংস্থার হাতে। তারাই এখন বিভিন্ন বন্ডে বা অন্য কোন খাতে এই সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগ করে। তাই এই উদারতা। পেনশন তহবিল শুধু ব্যক্তির জন্য নয়, সমষ্টিগত অর্থনীতির জন্যও একটি দীর্ঘস্থায়ী বিনিয়োগের উৎস। সেখানে একবারে বিপুল অর্থ বহির্গমন ঘটলে তা আর্থিক শৃঙ্খলার ভারসাম্য নষ্ট করার ঝুঁকি সৃষ্টি করে। তবু সরকার যদি এই নতুন স্বাধীনতার সঙ্গে সচেতনতামূলক ব্যবস্থা—যেমন বাধ্যতামূলক পরামর্শদান, আর্থিক পরিকল্পনার গাইডলাইন, এবং নির্দিষ্ট তোলার সীমা—জুড়ে দিতে পারে, তবে এই পদক্ষেপ সঠিক পথ ধরতে পারে। না হলে, আজকের স্বাধীনতা আগামীদিনের অনিরাপত্তার কারণ হয়ে উঠবে।এক কথায়, পেনশনের টাকা ওঠানো যেন স্বাধীনতার নাম করে ভবিষ্যতের বঞ্চনা না হয়ে দাঁড়ায়—এই ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে জরুরি।।