Editorial: জন্মদিনে (Birthday)বিশ্ববাসীকে মোদীর বার্তা – স্বদেশী(Patriotism)।

সম্পাদকীয়

সারা বিশ্বকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের(Economic Progress)মাপকাঠিতে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। আমেরিকা, রাশিয়া, জাপানের মত দেশগুলিকে বলা হয় উন্নত দেশ। আর ভিয়েতনাম, ব্রাজিলের মত দেশগুলি পেয়েছে অনুন্নত দেশের তকমা। আর ভারতবর্ষ স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরেও ছিল উন্নয়নশীল দেশের তালিকায়। এই উন্নত থেকে অনুন্নত লেবেলের মাপকাঠি তৈরি হয় জিডিপি( 2934 ডলার, )- র হিসেব অনুসারে। ভারতের জনসংখ্যার নিরিখে একদিকে যেমন মাথা পিছু ধারের পরিমাণ বেড়েছে। মাথাপিছু কমবেশি ৩ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে ভারতে শেষ 15 বছরে পরিবর্তন ঘটেছে আমূল স্তরে। স্বাধীনতার পরেও যেমন ভারতের সম্পদের পরিমাণ তৃতীয় বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এগিয়ে ছিল। আরব দেশগুলিতে চলত ভারতীয় টাকা। সোনার সংগ্রহেও ছিল ভারতের অগ্রগামী ভূমিকা। কিন্তু তারপরেই যেন হঠাৎ ছন্দপতন ঘটল। ’62 থেকে ’65 সালে পাকিস্তান ও চিনের সঙ্গে দুটো যুদ্ধের মাশুল হিসেবে ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থান অনেকটাই দুর্বল হয়ে পরল। বোঝার ওপর শাকের আঁটির মত এই সময়তেই দেশে খাদ্যাভাব দেখা দেয়। ফলে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে যেখানে বিশ্বের অনেক দেশে বিশেষ করে তেল উৎপাদনকারী দেশে চলত ভারতীয় টাকা, তারাও ডলারের নিরিখে বিনিময় মূল্য কমে লোকসানের ভয় পেল। টাকার ব্যবহার বন্ধ করে নিজেদের দেশের মুদ্রা বানিয়ে নিল। শুরু হল ভারতের পিছনের দিকে এগিয়ে চলা! সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলের স্বপ্ন ছিল স্বয়ম্ভূ ভারত। ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগে কংগ্রেস জমানায় বা পরে জনতা আমলে সরকার এত দুর্বল ছিল যে নিজেদের গদি সামলানই ছিল বড় সমস্যা। তার উপরে পাকিস্তানের বিভাজনের সময় অর্থাৎ বাংলাদেশ জন্মের সময় ভারতের বিপুল টাকার খরচের ধাক্কা সামলানর দায় পিছিয়ে দিয়েছিল অনেকটাই।

[আরও পড়ুন] http://স্বপ্নের ঘুড়ি ওড়ান, কিন্তু বিধি মেনে,সাবধানে।

নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পরে বিশ্ববাসীকে প্রথমেই জানিয়ে দিলেন এই ভারত অর্থনৈতিক ও সামরিক দুই ক্ষেত্রেই স্বনির্ভর হওয়ার জন্য লক্ষ্যস্থির করে নিয়েছে। মোদি বারবার দেশবাসী এবং বিশ্ববাসীকে স্বদেশী পণ্য ব্যবহার এবং দেশীয় প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, অন্য দেশের উপর নির্ভরশীল হওয়া বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ, তাই আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাই তিনি দেশীয় বণিকমহলকে দেশের প্রতি আরও বেশি নজর দিতে বলেছেন। জানিয়ে দিয়েছেন, বিদেশি নির্ভরশীলতা কমিয়ে ভারতের কৃষি, পরমাণু শক্তি, প্রযুক্তি, চিপ উৎপাদন, এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে দেশীয় উদ্ভাবনে জোর দিতে হবে।
প্রবাসী ভারতীয়দের দেশের ‘শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রদূত’ বলে সম্মানিত করেছেন।
একদিকে যেমন ফের টাকার ব্যবহার শুরু করে দিয়েছেন। জানিয়ে দিয়েছেন, ভারত আর বিশ্বের কোন দেশের থেকেই নিজেকে ছোট করে দেখবে না। আবার উন্নত দেশগুলির মত ক্ষমতার দম্ভ প্রকাশ না করে নিঃসঙ্কোচে জানিয়ে দিয়েছেন- ভারত আধিপত্য বিস্তার করতে চায় না। বরং সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নতি ও শান্তিতে অবদান রাখতে চায়। আর এই দৃঢ়তার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের প্রতিটি মানুষের অবদান রাখতে বলেছেন। স্বদেশী বাজারের প্রতি মনোনিবেশ করায় জোর দিয়েছেন। মোদি বলেন, ভারত এখন বিশ্ব মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে; ভারত কিছু বললে সারা বিশ্ব এখন শুনছে। এখানেই মোদীর জিৎ। যেন নতুন করে বেজে উঠল,’ মায়ের দেওয়া মোটা কাপড় মাথায় তুলে নে রে ভাই। দীনদুঃখিনী মা যে তোদের এর বেশি আর সাধ্য নাই।’ মোদীর ৭৫ তম জন্মদিনে(Birthday) সারা বিশ্বের শুভেচ্ছা পেয়েছেন। আর রিটার্ন গিফট হিসেবে ফেরৎ দিয়েছেন স্বদেশ চেতনা।