রাষ্ট্রের কাঠামো নাড়িয়ে দেওয়া যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ঘটনার খবর সারা দেশকে এক নিদারুণ দোলাচলের মধ্যে এনেছে সেটা হরিয়ানা রাজ্যের । ভয়ংকর এক অশুভ ইঙ্গিত আসে যখন উচ্চপদস্থ ন্যায়রক্ষাকারীর মৃত্যু নিয়েও সত্য অন্ধকারে ঢাকা পড়ে। ভাবতে হয় সাধারণ মানুষের অসহায়তা আন্দাজ করে। হরিয়ানায় এক আইপিএস অফিসারের( Y. Puran Kumar)মৃত্যুর এক সপ্তাহের মধ্যেই এক এএসআই( Sandeep Kumar Lather)–এর মৃত্যু। এ যেন কেবল দুটি প্রাণহানির খবর নয়, পুরো প্রশাসনিক আস্থার ভিত্তিকে কাঁপিয়ে দেওয়া এক বিরল দৃষ্টান্ত। দুজনই মৃত্যুর আগে জবানবন্দি দিয়েছেন। সমাজ ও মানুষের বিশ্বাস – মৃত্যুর মুখে মানুষ মিথ্যা বলে না। কিন্তু যখন দুটি বিপরীতমুখী জবানবন্দি সামনে আসে, এক গোষ্ঠীর অনাচারের অভিযোগ তুলে অন্য গোষ্ঠী প্রাণ বিসর্জন দেয় স্বাভাবিক ভাবেই তখন প্রশ্ন ওঠে—রাষ্ট্রের ন্যায়ের যন্ত্র কোনটি গ্রহণ করবে? কার জবানবন্দিই বা সত্যের মানদণ্ড হবে? যে FIR কে কেন্দ্র করে এই দুই প্রাণের অকালে চলে যাওয়া, সম্ভবত সেই FIR-র পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ফলাফলের ভিতরেই এই রহস্যের চাবিকাঠি নিহিত।
[আরও পড়ুন] http://SIR – র হাত ধরে বিজেপি কি পারবে সরকার বদলাতে
একজন সত্য আর অন্যজন নিশ্চিত ভ্রান্ত—অথচ দুজনেই রাষ্ট্রের সেবক, দুজনেই কর্তব্যের দায়ে বাঁধা। Y. Puran Kumar ৭ অক্টোবর ২০২৫ এ চণ্ডীগড়ে নিজ বাড়িতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত পাওয়া গিয়েছিল। মৃত্যুর আগে তিনি একটি “সুসাইড নোট” রেখে গিয়েছিলেন, যেখানে তিনি কয়েকজন উচ্চপদস্থ আধিকারিককে বর্ণবৈষম্য, মানসিক হয়রানি ও অপমানের অভিযোগ তুলেছেন।
অন্যদিকে ঠিক বিপরীত মুখী শিবিরের এক ASIঅফিসার যার নাম Sandeep Kumar Lather রহতকের গ্রামে কাজের জায়গা থেকে দূরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়। ঠিক এক সপ্তাহের মধ্যে, অর্থাৎ ১৪ অক্টোবর ২০২৫ এ, তিনি Rohtak-এর Ladhot ঘটনাটি গভীর বিতর্কের মুখে এসেছে; তদন্তের জন্য একটি SIT (বিশেষ তদন্ত দল) গঠন করা হয়েছে।
যদি এদের একজনের সত্য অন্যজনের মৃত্যু ডেকে আনে, তাহলে সেই সত্যের নৈতিক মূল্যও প্রশ্নের মুখে পড়ে। এই দুই মৃত্যুর মাঝে যে ছায়া ঘনীভূত হচ্ছে, তা প্রশাসনিক দায় এড়াতে পারে না। তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ বা “অভ্যন্তরীণ বিষয়” বলে এড়িয়ে যাওয়া মানে হলো আরও একবার মানুষকে রাষ্ট্রের প্রতি অবিশ্বাসী করে তোলা। সত্যের প্রয়াস সমাজকে টিকিয়ে রাখে। কিন্তু সেই প্রয়াস যদি ভয়, চাপ, বা রাজনীতির ভারে বিকৃত হয়ে যায়, রাষ্ট্রের প্রতীকেরা তখন ভয়াবহ নিঃসঙ্গতার প্রতীকে পরিণত হয়। হরিয়ানার এই দুই মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয়—অন্যায়ের শরীরে যে সত্য চাপা পড়ে, তার প্রতিশোধ ন্যায়বিচারের আদালতেই নয়, ইতিহাসও নেয়। এবং ইতিহাসের চোখ কখনও বন্ধ হয় না।
