Editorial:D ফর ডর, ডিলিট নাকি ডেমোক্রেসি

সম্পাদকীয়

নিউজ পোল ব্যুরোঃ “D ফর ডেমোক্রেসি না D ফর ডিলিট?”বাংলার রাজনীতি ফের উত্তপ্ত হয়েছে ভোটার তালিকা ঘিরে। ৪ তারিখ থেকে মাঠকর্মীরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন নাম যাচাই করতে—এটাই তো গণতন্ত্রের প্রাণ, মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার মৌলিক প্রক্রিয়া। কিন্তু দেখার বিষয়, এই গণতন্ত্রের প্রতীকী যাত্রাকে যেন কেউ কেউ বিকৃত করে তুলতে চাইছে ভয় আর বিদ্বেষের রাজনীতিতে। ভোটার তালিকা মানে জনগণের অস্তিত্বের দলিল। অথচ বিজেপির একাংশ এই দলিলকেই সন্দেহের ছায়ায় ফেলে দিতে মরিয়া। তাদের কাছে ‘D’ শব্দের মানে আর ‘Democracy’ নয়—তার মানে এখন যেন ‘Delete’। মুছে দাও, বাদ দাও, সরিয়ে দাও—এই হিংসাত্মক মনোভাব গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে একেবারেই অসুসঙ্গত। অনুপ্রবেশকারী আর নাগরিকের পার্থক্যের আড়ালে ধীরে ধীরে চালানো হচ্ছে এক ভয়ানক মানসিক বিভাজন। যেখানে মুসলিম নাম মানেই সন্দেহ, রোহিঙ্গা মানেই শত্রু।এই ভয়ের রাজনীতি তৈরি করছে এক বিপজ্জনক বিভাজনরেখা। নাগরিক তালিকাকে হাতিয়ার বানিয়ে কারা কতজনকে ‘অদৃশ্য’ করা যায়, সেই হিসাব চলছে।

[আরও পড়ুন]  http://বাংলায় স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি সহজ নয়

‘ডি’ কোম্পানির মালিক দাউদ ইব্রাহিম। অপরাধ জগতের ডন বলে কুখ্যাত। যাকে নিয়ে সিনেমাও বানিয়েছেন রামগোপাল ভার্মা। বাংলার ভোট সন্ধিক্ষণে একটা ‘প্রলয়’ আনার চেষ্টা চলছে। কিন্তু মানুষের জীবন শুধু সিনেমাটিক কাহিনী নয়। ছাপোষা সাধারণ মানুষকে হরর মুভি দেখানোর চেষ্টা না করাই গণতন্ত্রের জন্য ভাল। একমাত্র বাংলার অতি সচেতন মানুষকে ‘ডর’ দেখানোর এই অপচেষ্টা যত তাড়াতাড়ি বন্ধ হবে ততই সাধারণ মানুষের মঙ্গল। সেখানেই এসে পরে রাষ্ট্রের দায়িত্ব। স্বশাসিত কমিশন নিয়ে এত ঘোঁট পাকানোর বীজ তারাই বুনে দিয়েছেন ঠিক ভোটের আগেই সংশোধনের প্রয়োজন কেন। ব্যাপারটা বুঝতে বোধহয় বিশ্ব রাজনীতি বিশেষজ্ঞ হতে হবে! সরকারি সংশোধন প্রক্রিয়া তো যে কোন সময়ই শুরু করা যেত।
অথচ রাষ্ট্রের কর্তব্য হওয়া উচিত ছিল—প্রত্যেক বাসিন্দার অধিকার রক্ষা, ভয়মুক্ত পরিবেশে নাগরিক সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। প্রশ্ন উঠছে, মুখ্যমন্ত্রীর দিকেও। ভোটের ময়দানে শুধু দলগত টিকে থাকা নয়, গণতন্ত্রকে রক্ষার দায়ও তাঁর কাঁধে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক তৎপরতার বদলে দেখা যাচ্ছে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার ব্যস্ততা। ভোটারদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের মধ্যে আস্থা সঞ্চার করা — এই মৌলিক দায়িত্ব থেকে যেন সরকার অনেক দূরে সরে যাচ্ছে। বাংলার রাজনীতি আজ এক সঙ্কটমুহূর্তে দাঁড়িয়ে। যদি D ফর Democracy সত্যিই আমাদের প্রথম শর্ত হয়, তবে এই তালিকা হবে সবার—না কারও জন্য ভয়, না কারও জন্য তাড়াহুড়ো করে মুছে ফেলা নাম। অন্যথা, এই “Delete” রাজনীতি একদিন আমাদের সমাজকাঠামো থেকেই ভোটাধিকার শব্দটাই মুছে দেবে। নাগরিকত্ব আর ভোটাধিকার যে এক নয়, সেটা সাধারণ মানুষকে ভয় আর আতঙ্কের ঊর্ধ্বে উঠে মনে রাখতে হবে।