পঞ্চমী দুর্গা পুজো সাধারণত দুর্গাপুজোর (DurgaPuja2025) পাঁচদিনের উৎসবের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এই দিন দেবী দুর্গার আরাধনা এবং কিছু বিশেষ পূজা এবং টোটকা সম্পাদিত হয়। পঞ্চমীর দিন বিশেষভাবে ভাগ্য উন্নতি ও শুভ কাজের জন্য কিছু নিয়ম মেনে পুজো করা হয়। পঞ্চমী দুর্গা পুজোর নিয়মাবলী সাধারণত: পঞ্চমীর দিন মায়ের আরাধনা ভক্তি ভরে অঞ্জলি নিবেদনের সঙ্গে হলুদ রঙের ফুল দিয়ে পূজা করা। পঞ্চমীর দিন ব্যবসা বা চাকরির জায়গায় মা লক্ষ্মীর মূর্তি বা ছবি স্থাপন এবং পুজো করা শুভ। অর্থকষ্ট থেকে মুক্তি পেতে পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত সিদ্ধিদাতা গণেশের পুজো করা শুভ। পুজোর বিভিন্ন মন্ত্র ও ন্যাস প্রয়োগ করা হয়, যেমন আচমন, বিষ্ণু স্মরণ, বরণ, সংকল্প, মন্ত্র উচ্চারণ ইত্যাদি। পঞ্চমীর দিন মোটামুটি এসব নিয়ম মেনে পুজো করলে ভাগ্যের জোর দ্বিগুণ হয় বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে বিবেচনা করা হয়। অন্যান্য দিনের মতো পঞ্চমীর দিনও সম্পূর্ণ পুজোর ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ অংশ ।
[আরও পড়ুন]http://দুর্গাপুজো দু’পক্ষের(BJP-TMC) কাছেই জনসংযোগের আরাধনা
বাংলার দুর্গা পুজোর ধারাবাহিকতায় সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার বিবর্তনের পরবর্তীকালে জমিদারদের হাত থেকে বার ইয়ারি অর্থাৎ বারোয়ারি পুজোর প্রচলনের পর থেকে নিয়ম-কানুনের প্রতি নিষ্ঠার বদলে ঠাই পেল সম্মিলিত আনন্দ অনুষ্ঠানে একতা ও দলবদ্ধতার প্রতি মনোনিবেশ । ফলে ফোকাসটা বদলে গেল। যার ফলে অকাল বোধনের শারদীয় উৎসবে আড়ম্বরটাই সামনে এল। পিছনে চলে গেল রামচন্দ্রের ‘নীলচক্ষু’ উপড়ে দেওয়ার প্রচেষ্টার প্রতি ধ্যান। এযেন “তোমার পূজার ছলে তোমায় ভুলে থাকি।” একে অবক্ষয় বলবেন নাকি উত্তরণ – সেটা নির্ভর করবে আপনার উদারতার উপরে। আজ অফিস পাড়ায় বড় সুখের দিন। বছরের সেরা ছুটির অবকাশ মেলে এই সময়। কাছেপিঠে কিংবা দূরে যাওয়ার এবং নিজের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর এই অখণ্ড মুহূর্তের দিকে বাঙালিমাত্রই চেয়ে থাকে। রাজনীতি, অর্থনৈতিক অবক্ষয় আর অভাব অভিযোগকে দূরে সরিয়ে বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবের জন্য নিজেদের মানসিক প্রসারণ ঘটানোর প্রয়াসে ব্রতী হই। তমসো মা জ্যোতিঃর্গময়।। শুভমস্তু।।
