Editorial : মেয়েরা তবে যাবে কোথায় ?

সম্পাদকীয়

 নিউজ পোল ব্যুরো– দুর্গাপুর থেকে দিল্লী – মেয়েদের পায়ে আজও বেড়ি(Girls_security)। বিধিনিষেধের দেয়াল দিয়ে ঢাকা ব্যর্থতার দাগ। দুর্গাপুর থেকে দিল্লি—দেশের প্রতিটি প্রান্তে যেন এক অদ্ভুত নৈঃশব্দ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। নিষেধের বেড়াজাল দিয়ে ফের নিজেদের ব্যর্থতা ঢেকে দেওয়ার অক্ষম প্রয়াসে মত্ত প্রশাসন আর অপদার্থ সরকার। নিরাপত্তা, সুরক্ষা, জনকল্যাণ—এই সব নামের আড়ালে আজ প্রশাসন নিজস্ব অপদার্থতা ও অদক্ষতার মুখোশ পরিয়ে দিচ্ছে জনগণকে। সরকারি ব্যর্থতার ধুলো ঢাকতে বিধিনিষেধের বালু দিয়ে তড়িঘড়ি গড়া হচ্ছে এক ক্ষণভঙ্গুর প্রাচীর, যা না রক্ষা করছে নাগরিক অধিকার, না ফিরিয়ে আনছে প্রশাসনের প্রতি আস্থা। শাসকদের এখন একটাই সহজ পথ—মানুষের মুখ বন্ধ রাখো। প্রশ্ন এলে হুমকি দাও, প্রতিবাদ হলে মামলা দাও, কণ্ঠস্বর তুললেই চাপাও “অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা”র নামে। উত্তর থেকে দক্ষিণ সীমানা — ঘটনার সীমা নেই। অথচ রাস্তাঘাটের দুরবস্থা, হাসপাতালের অচলাবস্থা, শিক্ষার অবনতি বা শিল্পাঞ্চলের অনিশ্চয়তার জন্য কারও জবাবদিহি নেই। প্রতিটি ব্যর্থতার পরই আসে নতুন একটি বিজ্ঞপ্তি—একটি নিষেধাজ্ঞা, একটি বিধিনিষেধ—যেন জনগণ হল সেই অপরাধী, যার নীরবতা প্রশাসনের পরিত্রাণ। গ্রাম দিয়ে ঘেরা এই সবুজ বাংলায় শহরের ঘটনা যদি বা দিনের আলো দেখে, গ্রাম গঞ্জের হাজার ঘটনা চাপা পড়ে যায় এক প্রাগৈতিহাসিক ব্যবস্থায়।

[আরও পড়ুন]  http://নারী- পুরুষের ভেদাভেদ থেকে কবে মুক্তি

এক অদ্ভুত রাজনীতির বাতাবরণে ঢেকে যাচ্ছে সামাজিক সুরক্ষা(Girls_security)। জেনারেশন জেড আর ছাত্রসমাজকে নেশার মাদক আর মোবাইলের নগ্ন সুপার এক্স থেকে হোয়াটস অ্যাপের মধ্য দিয়ে টাইম পাসের ব্যবস্থা করে মৌলিক চাহিদাগুলির বিক্ষিপ্তকরণ চালু হয়েছে। এভাবে হয়না। দেশ দুনিয়া একদিকে চাঁদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে আর রাজ্যে রাজনৈতিক দলগুলি গরম ইস্যু খুঁজছে। কীভাবে টাকা আর ক্ষমতার গদি দখলের লক্ষ্যে চলছে আবিলতার রাজনীতি। কোন রকম সমালোচনাকে বিদ্রোহ বলে ধরা হচ্ছে, বিচ্ছিন্ন কেস অজুহাতে নির্বিচারে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে কারাগারে। ‘বেশি বোঝা মানুষদের'(Intellectual)গ্রহণযোগ্যতা তলিয়ে যাচ্ছে সুবিধাবাদের আড়ালে। আর রাষ্ট্র যখন সমালোচনাকে শত্রু ভাবতে শুরু করে, তখন সভ্য সমাজ ধীরে ধীরে মধ্যযুগে ফিরে যায়। আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে প্রশ্ন করা দোষ, বিশ্লেষণ করা অপরাধ, আর কথা বলা বিদ্রোহ। ফলে নারী স্বাধীনতা তো দূরের কথা, কারও নিরাপত্তা নেই। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী—যে সরকার মানুষকে চেপে রাখতে চায়, শেষপর্যন্ত তার নিজের ভিতই ভেঙে পড়ে। আজ দরকার শাসনের অহং নয়, দায়বদ্ধতার চেতনা। আর যদি সত্যিই সমাজকে এগিয়ে নিতে হয়, তবে প্রশাসনকে শেখাতে হবে—স্বচ্ছতা কোনো দুর্বলতা নয়, বরং সেটাই  নাগরিক আস্থার একমাত্র ভিত্তি।