Editorial: North Korea:কে দিল এত সাহস?

সম্পাদকীয়

উত্তর কোরিয়া(North Korea)বহুদিন ধরে পরমাণু অস্ত্রকেই নিজেদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি বলে মনে করে এসেছে—তাদের মতে, আমেরিকা ও বাইরের দেশগুলো থেকে সম্ভাব্য আগ্রাসনকে ঠেকাতে পরমাণু ক্ষমতা অপরিহার্য। কিম জং-উন (Kim Jong un)প্রকাশ্যেই বলেছেন, ‘নিউক্লিয়ার ডিটারেন্স'(Nuclear Detterence)তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য জরুরি।
দেশীয় নিরাপত্তার অমোঘ দাবি যা নিজেকে আমেরিকা,দক্ষিণ কোরিয়া তথা জাপানের হুমকি থেকে রক্ষা। উত্তর কোরিয়ার কিম জং-উন (Kim Jong un)ট্রাম্পের(Donald Trump)হুশিয়ারিকে তোয়াক্কা না করে পরমাণু বোমা পরীক্ষা চালানোর সাহস পেয়েছে মূলত তার দেশের দীর্ঘদিনের আতঙ্ক ও আত্মরক্ষার মনোভাব থেকে।
ট্রাম্প(Trump) প্রশাসন নানা রকম তীব্র নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক হুমকি দিয়েছে—”fire and fury”-এর মতো হুশিয়ারি—তবুও কিম বুঝেছিলেন, আমেরিকার সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন এবং তাদের রাষ্ট্রকে টিকে থাকতে হলে শক্তি প্রদর্শন করতে হবে।সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সোলিড-ফ্যুয়েল ইঞ্জিন, আইসিবিএম মাইন্ড এবং গোণা কেন্দ্রীয় সুবিধার এগিয়ে চলার খবর এসেছে — এগুলো কার্যকরী সক্ষমতা বাড়ায় এবং পরীক্ষার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। তাই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার উৎসাহ বাড়ে। দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও আত্মবিশ্বাস অর্থাৎ অস্ত্র শক্তি বাড়ছে।

[আরও পড়ুন] ] http://স্বপ্নের ঘুড়ি ওড়ান, কিন্তু বিধি মেনে,সাবধানে।
অন্যদিকে দেশের আভ্যন্তরীণ সমস্যার সামনেও নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল দেখানোর প্রয়োজন। তাকে অস্বীকার না করে কিম জং-উন দেশের জনগণের সামনে নিজের শক্তিশালী ভাবমূর্তি বজায় রাখতে চান এবং পারমাণবিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিদেশি চাপকে চ্যালেঞ্জ করেন। বারবার ভীতিকর চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক সমালোচনার মধ্যেও কিম বুঝেছেন, আমেরিকা সহজে হামলা করবে না এবং যেহেতু তারা পরমাণু অস্ত্র পেয়েছে, সেই শক্তির দামি কৌশল তাদের হাতে আছে।
চীন এবং রাশিয়ার সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক কিছু ক্ষেত্রে গভীর হয়েছে — তা সরাসরি ‘সমর্থন’ নয়, কিন্তু বড় রাষ্ট্রগুলোর কঠোর কড়া আকস্মিক পদক্ষেপ ঠেকানো বা কূটনৈতিক চাপ কমাতে পারে। আবার, বেজিং-মস্কো–পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক একসারিতে বসার নয়। অর্থাৎ কিম চান্স নিয়েছেন। দিয়েছেন স্টান্ট। সোজা কথায়, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি তাদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, কিমের শাসন টিকিয়ে রাখা এবং বাইরের বিশ্বের আগ্রাসন ঠেকানোর মূল হাতিয়ার—এটাই কিমকে সাহস ও আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। আর বর্তমানে সারা বিশ্বে শক্তিধর দেশের সংখ্যা এক আমেরিকায় সীমাবদ্ধ নেই। এখন রাশিয়া,চিন আর ভারতের নাম উঠে আসছে শক্তিধর দেশের তালিকায়। কোন দেশের সাপোর্ট কে পায় সে কথা কে বলতে পারে। আর প্রযুক্তির উন্নতি আর ইনফ্রা-কাঠামো উন্নয়নে এই ঝুঁকি নিতেই হবে এই মনোভাবের জয় হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরও কড়া হতে পারে, কিন্তু তার কার্যকারিতা সীমাবদ্ধ—তার পরিচয় অতীতেও পাওয়া গেছে। সুতরাং কিম সময়ের সাথে সাথে সাহসের ঝুঁকি নিয়েছেন।