Editorial: উত্তরবঙ্গে শুধু সাহায্যই যথেষ্ট নয়।

সম্পাদকীয়

 

নিউজ পোল ব্যুরোঃ উত্তরবঙ্গে সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata at North Bengal)সফর ও তার ঘোষণাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতি এবং প্রশাসনিক তৎপরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। কলকাতা থেকে সরাসরি বাগডোগরায় পৌঁছে তিনি উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠক করেন এবং উত্তরবঙ্গের পাঁচটি জেলাকে নিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।মূল ঘোষণা ও প্রশাসনিক তৎপরতা – মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, বন্যা ও ধসে মৃতদের পরিবারকে রাজ্য সরকার পাঁচ লক্ষ টাকা করে সাহায্য করবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য পুনর্বাসন সুনিশ্চিত করা হবে। প্রশাসনিক বৈঠকে জেলাশাসকদের থেকে প্রত্যক্ষ রিপোর্ট সংগ্রহ করার পাশাপাশি কোন কোন এলাকা বিশেষ করে বেশি বিপর্যস্ত, এবং সরকারের কুৎসিত ব্যবস্থাপনাগত ফাঁক কোথায় — তা চিহ্নিত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ।

[আরও পড়ুন]  http://রিচা ঘোষকে ইডেন গার্ডেনে সংবর্ধনা

বাড়তি গুরুত্ব পেল দীর্ঘমেয়াদী পুনর্গঠনও, কারণ বহু এলাকার রাস্তা, সেতু, বেসিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও ভেঙে পড়েছে । সম্ভাব্যভাবে দার্জিলিংয়ে একটি শিল্প কারখানার উদ্বোধন করেছেন মমতা, যা নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়াবে বলে আশা । রাজনৈতিক তাৎপর্য – উত্তরবঙ্গে ধারাবাহিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ সাহায্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ে রাজ্য সরকারের উপর জনসাধারণের চাপ বাড়ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সফর(Mamata at North Bengal) ও প্রকাশ্য ঘোষণা প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উল্লেখযোগ্য । সাম্প্রতিক দুর্যোগ ও পুনর্বাসন নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের ক্লান্তিকর টানাপোড়েন সামনে আসে তাঁর বক্তব্যে । তার মধ্যেই ঘর মেরামতির টাকা দেওয়ার ঘোষণা -১৪ হাজার ৭৯৪ টি পরিবারকে সাহায্যের। ব্যয় হবে মোট ১৬১ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা । এছাড়া সবজি বীজের জন্য ১০ কোটি সাহায্য ঘোষণা করা হয়েছে। কৃষি জমির সার্ভে হলেই টাকা দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, কৃষি বীমার পুরো টাকাটাই রাজ্য সরকার দিয়ে থাকেন। এই সফর এবং ঘোষণা উত্তরবঙ্গের জনগণের আত্মবিশ্বাস ফেরাতে এবং বেড়ে ওঠা বিরোধী সুরকে মোকাবিলা করতেও রাজনৈতিক দিক থেকে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করা হচ্ছে ।
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ – উত্তরবঙ্গের ক্রমাগত প্রাকৃতিক দুর্যোগ স্থায়ী উন্নয়ন ও দুর্যোগ-পরবর্তী ব্যর্থতা, সরকারী সচেতনতার অভাব এবং প্রকৃত পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে এক মারাত্মক প্রশ্ন তুলেছে । দুর্যোগ মোকাবিলা উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিক বছর সামনে রেখে তাঁর মনোভাব প্রশাসনকে আরও সক্রিয়তার পথে বাধ্য করতে পারে। তবে, প্রকৃত পুনর্গঠন ও দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শুধু ক্ষতিপূরণ বা রাস্তাঘাট সংস্কার নয়—জলবায়ু অভিযোজনমুখী নীতি, স্থানীয় প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ, ও পরিচালনা কমিটির স্বীকৃতি জরুরি ।
সুতরাং, উত্তরবঙ্গ যে শুধু দুর্যোগের শিকার নয়, বরং প্রশাসনিক মর্জিরও দেখার বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে।