নিউজ পোল ব্যুরোঃ সুপ্রিম কোর্ট বহুবার নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission) স্বাধীনভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী এই সংস্থা স্বশাসিত, অর্থাৎ রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে নিরপেক্ষ ও ন্যায্যভাবে ভোট পরিচালনার দায়িত্ব তার। কিন্তু বাস্তব চিত্র, বিশেষত বাংলার মতো রাজনীতি সচেতন রাজ্যগুলিতে, অনেক সময় এই আদর্শকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। বাংলায় ভোট মানে শুধু সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, তা সামাজিক উত্তাপ, প্রশাসনিক চাপে ও দলীয় প্রতিযোগিতার প্রতীক। সবাই জানে যে, এই রাজ্যের ভোট প্রক্রিয়া সেই যুক্তফ্রন্টের আমল থেকেই হিংসাকে বাদ দিয়ে হতে পারেনি। ফলে কোর্টের গাইডলাইন থাকলেও তার প্রয়োগ নির্ভর করছে কতটা কমিশন নিজের সংবিধানিক মর্যাদাকে বাস্তবে প্রয়োগ করছে তার উপর। কাগুজে নির্দেশিকা যতই স্পষ্ট হোক, যদি কমিশনের অভ্যন্তরীণ মানসিকতা রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে যায়, তবে সেই নির্দেশিকা নিছক অবলম্বন হয়েই থেকে যায়। আজ প্রয়োজন নির্বাচন কমিশনের এমন এক আচরণবিধি ও কর্মসংস্কৃতি, যা কোনো দলের ‘কপি বুক’ নয় এবং কোন রঙের ছায়ায় ঢাকা পড়ে না। ভোটার তালিকা সংশোধন, বুথ বন্টন, কিংবা পর্যবেক্ষক নিযুক্তি — সব ক্ষেত্রেই কঠোরভাবে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতার দৃষ্টান্ত তৈরি করতে হবে।
[আরও পড়ুন] http://BLO- দের নিরাপত্তার প্রশ্নটা গণতন্ত্রের
নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) প্রথম প্রায়োগিক অস্তিত্ব টের পাইয়ে ছেড়েছিলেন “টাইট নাট” সেশন। উনি এতটাই কঠোর ছিলেন বলে তাঁর আসল নাম টি এন সেশনকে লোকমুখে এই বদলের মুখে পড়তে হয়। সেই রকম মাপের লোক কমিশনে আর এসেছে বলে জানা নেই। যাই হোক , বাংলার মতো রাজ্যে যেখানে রাজনৈতিক আনুগত্য বহু প্রশাসনিক গতিবিধিতেও প্রভাব ফেলে, সেখানে কমিশনের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে তার দূরত্ব, নিরাসক্তি ও অবিচল নীতি। নির্বাচন কমিশনকে মনে রাখতে হবে—তার কাজ কোনো দলের বিজয় বা পরাজয়ের ব্যবস্থাপনা নয়, বরং গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা রক্ষা করা। নাগরিকের আস্থা ফেরাতে হলে তাকে শুধু নির্দেশিকা নয়, দৃশ্যমান সততার রাজনীতি চর্চা করতে হবে। ভূতুড়ে ভোটার, নেই ভোটার, অনুপ্রবেশকারী ভোটার- এইসব বাদ দেওয়া নিরপেক্ষ স্বশাসিত সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব হলেও বাস্তবে রূপ দেওয়া মোটেও সহজ নয়। গণতন্ত্রের এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে, ভোটাধিকারের প্রতি মানুষের আস্থা কাগজে কলমে নয়, বাস্তবে ফিরিয়ে আনতে কমিশনকে নিরপেক্ষ হতে হবে। জোড়াতালি দেওয়া বিহার সংশোধনের মধ্যেও যথেষ্ট “জল মেশানোর ” অভিযোগ রয়ে গেছে। আর এবার গণতন্ত্রের অন্যতম, রাজনীতির প্রেক্ষাপট যে রাজ্যের সবচেয়ে বিতর্কিত সেই বাংলার ভোট তালিকা সংশোধনে যে সুপার পাওয়ার নিয়ে কমিশনকে কাজ করতে হবে, সে কথা বলা একান্ত আবশ্যক। তবেই সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া স্বাধীনতার বার্তা বাস্তব হয়ে উঠবে, কাগজে নয়, মাটিতে। রাজ্যে হাইকোর্টের নজরদারিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ হয় নাকি সেটা জানতে পারা সময় সাপেক্ষ। কিন্তু একথা স্পষ্ট ভাবেই বলা যায়, সরকার গঠনের কাজ ডান কিংবা বামের নয়। সেখানে শেষ পর্যন্ত জবাবদিহি করতে হবে মানুষের কাছেই।
