Editorial : GST আর স্বদেশী অস্ত্রে দেশের বাজার চাঙ্গা করতে চাইছেন মোদী।

সম্পাদকীয়

জিএসটি (গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স)(Goods and service tax)কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে নানা আলোচনা হচ্ছে। সরকার দাবি করছে, এই কর কমানোর ফলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সরাসরি উপকৃত হবেন, বাজারে চাহিদা বাড়বে এবং অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। তবে প্রশ্ন রয়েছে — এই সুবিধা শেষ পর্যন্ত কতটা ভোক্তার হাতে পৌঁছাবে, সেটাই আসল বিষয়।
আজ থেকে কমে গেল গৃহস্থালি সামগ্রীর দাম। কমে গেল গাড়ি, টিভি, বাইকের দামও। রুটি, পরটা ইত্যাদির দাম যেমন কমে গেল । দুধ,ছানা,পনিরকে একেবারেই জিএসটি(GST) আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও জীবনবীমা কিস্তির উপরেও তুলে নেওয়া হল জিএসটি।
সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় ও বিভিন্ন উচ্চমূল্য পণ্যের উপর জিএসটি হার কমানোয় বাজারে জিনিসের দাম কমবে। এতে সাধারণ মানুষের আর্থিক সাশ্রয় হবে, বিক্রি বাড়বে, এমনকি কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল বারবার বলেছেন, শিল্পমহলকে এই সুবিধা সরাসরি ভোক্তাদের দিতে হবে এবং সরকার কড়া নজরদারি করবে। বস্তুত, নরেন্দ্র মোদীর কাছে নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার এটাই একটা বড় সুযোগ। মোদীর কাছে স্বদেশী ব্র্যান্ড প্রচারের যে লক্ষ্য সামনে এনেছেন। যে অস্ত্রে তিনি দেশের বিরোধী ও বিদেশী শক্তি — উভয়কেই ঘায়েল করতে চাইছেন, তার কার্যকারিতার উপরেই মোদীর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারও অনেকটা নির্ভরশীল।

/gst-new-tax-structure-india-essentials-luxury-prices-change/
তবুও, বাস্তবে এই কর সুবিধার পুরোটা যে ক্রেতা পাবেনই, সে ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ মহলে সংশয় আছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, কর হ্রাসের সুবিধা উৎপাদনকারী ও ভোক্তার মধ্যে বিভাজিত হয় — সব সময়েই দাম সেই অনুপাতে কমে না। উপরন্তু, আগে মুনাফাখোরি প্রতিরোধ সংস্থা থাকলেও, বর্তমানে তা নেই, ফলে সরকার কেবল নজরদারির আশ্বাস দিলেও, মৌলিক আইনি ব্যবস্থা না থাকায় বাজারে পুরোটাই শিল্পমহলের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করবে।
অনেকে মনে করেন, এই পদক্ষেপ নির্বাচনের আগে মধ্যবিত্তের মন জয় ও বাজারে ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার কৌশলও হতে পারে। জিএসটি কমানো নিয়ে বিরোধী দল ও রাজ্যগুলিও সমালোচনামুখর, কারণ তাদের পরামর্শ না নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কংগ্রেস(congress) সর্ব ভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন, ‘ ভোক্তার ক্ষতের উপর ব্যান্ড এইড লাগানোর মত।’ এছাড়াও জিএসটি কমানোর কথা যেভাবে ঢাক পিটিয়ে বলা হচ্ছে, তার একাংশও সামনে আসছে না জিএসটি বাড়ানোর ঘোষণা। 40 শতাংশ জিএসটি (GST) বাড়িয়ে নিত্য ভোগ্যপণ্যের কমিয়ে দেওয়ার লোকসান অনেকটাই পুষিয়ে নেওয়া হয়েছে। বস্তুত জনতার 2.5 শ কোটি টাকার সাশ্রয় বলে যে ঘোষণা তা যে আসলে সোনার পাথর বাটি তা বলাই বাহুল্য। কংগ্রেসের দাবি মেনে নিলে জিএসটি সরলীকরণের উপর তারাই জোর দিয়েছিলেন। কিন্তু জোর যার মুলুক তার থিওরি অনুসারে জিএসটি হ্রাসের এই প্রলেপ সাধারণ মানুষের কাছে কতটা পৌঁছুবে সন্দেহ আছে সেই প্রশ্নেও। অবশ্য অর্থমন্ত্রী নির্মলা ব্যবসায়ীদের বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ করেছেন, যাতে তারা সরাসরি ভোক্তাদের এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা না হয়। তবে জিএসটি কমানো নিঃসন্দেহে স্বস্তির বার্তা। তবে কতটা স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে এই সুবিধা ভোক্তাদের হাতে পৌঁছবে, সেই নজরদারি ও আইনি কাঠামোর অভাবেই মূল প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। বাজার ও সরকারের সদিচ্ছাই এই সমীকরণের আসল চালিকা শক্তি হয়ে থাকছে।