ভয়ংকর এক অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। আর্থ – সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যেমন অস্থিরতা রয়েছে তেমনি অস্থিরতা রয়েছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনেও। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলার সামনে এখন ঘনঘোর বিঘ্নের মেঘ। বিঘ্নের বলয়ের মধ্যে পড়ে বাঙালির জীবনযাত্রাতেও নেমে এসেছে একাধিক বিঘ্ন। অথচ আজকে বিঘ্ন নাশের তিনি অধিপতি তার আরাধনা চলছে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে।
বাঙালি মনেপ্রাণে চাইছে তার সমাজ জীবন, রাজনৈতিক জীবন এবং আর্থিক জীবনের সামনে যত বিঘ্নের পাহাড় আছে সেগুলি যেন রাতারাতি সরে যায়। আসলে আজ গণপতির কাছে বাংলা এবং বাঙালি মনেপ্রাণে এই একটাই প্রার্থনা । শাস্ত্র অনুযায়ী, গণেশ শব্দের অর্থ যদি একটু সন্ধি বিচ্ছেদ করে ব্যাখ্যা করা যায় তাহলে দাঁড়ায় বিষয়টা এইরকম – গণ+ ঈশ= গণেশ
যিনি জনগণের ইষ্ট তিনিই গণেশ। জনগণকে নিয়ে থাকেন গণপতি। তাইতো আজকে মোক্ষম দিন প্রভুর কাছে কিছু চাওয়ার। বরাবরই প্রগতিশীল বাঙালি তার রাজনৈতিক এবং সামাজিক জীবনে ধারাবাহিকভাবে চেয়েছে স্থিতিশীলতা। কেননা রাজনৈতিক এবং সামাজিক ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা না থাকলে সৃজনশীলতার কোনও দামই থাকেনা। তাই সৃষ্টির স্বার্থে স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয় একটা বিষয়। সৃজনশীলতা প্রকারান্তরে মানুষের উন্নয়নের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। আর উন্নয়ন যেখানে জড়িয়ে থাকে সেখানে স্বাভাবিকভাবেই জড়িয়ে যায় জনস্বার্থের বিষয়টি।
বাঙালির সৃষ্টিশীল স্বাধীন মুক্ত চিন্তা যেমন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনকে সর্বভারতীয় রূপ দিয়েছিল – যার সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন ভারতের জনগণ। কাঙ্ক্ষিত না হলেও এসেছিল খন্ডিত স্বাধীনতা। যার সুফল একা শুধু বাঙালি ভোগ করেনি, ভোগ করেছে গোটা ভারতবাসী। আর্থিক ক্ষেত্রেও স্থিতিশীলতা বাঙালিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল বহুদূর শিল্পায়ন তথা কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে। তাই গোটা ভারতবর্ষে যখন শিল্পায়ন শব্দটা খায় না মাথায় মাখে ঠিক তখন এই বাংলার গঙ্গার দুপাশ ঘিরে গড়ে উঠেছিল একের পর এক কলকারখানা। আর সেই কারখানায় শুধু বাঙালি কাজ পায়নি, পেয়েছিল ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মানুষরাও। অথচ আজ বাংলার শিল্পায়নের গাঙে জোয়ারের পরিবর্তে বইছে ভাটার স্রোত।
খুব স্বাভাবিকভাবেই, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে একের পর এক বিঘ্ন বাংলাকে পরিণত করেছে — কবির ভাষায়, ‘ যে নদী হারায় স্রোত চলিতে না পারে সহস্র শৈবাল দাম ঘিরে ধরে তারে। ‘ আজ বাংলা এবং বাঙালি চাইছে সেই শৈবাল দাম সরিয়ে আবার শিল্পায়নের গাঙে আসুক ভরা জোয়ার। বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত যখন আজকে মেতে উঠেছে গণেশ চতুর্থীর উৎসবে ঠিক তখন বাঙালি যেন হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে বলতে চাইছে –
এক দন্ত্বং মহাকায়ং
লম্বরদর গজাননম
বিঘ্ন নাশং করং দেবং
হেরোম্বম প্র্ণবম মহ্যমবাংলা স্বাধীনতার পর থেকে অনেক রাজনৈতিক বঞ্চনা, গঞ্জনা মুখ বুজে সয়েছে। কোন কোন সময় গর্জেও উঠেছে । তাতে যে মাঝে মধ্যে সুফল বাংলা পায়নি এমনটা নয়। কিন্তু দরকার আজ বাংলার সামনে থেকে সমস্ত বিঘ্ন চিরতরে নাশ হওয়ার।
