নিউজ পোল ব্যুরোঃ সাধারণ ভোটার তালিকা সংশোধনের বদলে SIR-এর মতো সংবেদনশীল প্রকল্প বড়ো রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে । SIR ঘোষণার পর থেকে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী দল, বিশেষত INDIA ব্লক ও তৃণমূল কংগ্রেস, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। দেশে SIR ঘোষণার অভিঘাত শুধুমাত্র প্রশাসনিক নয়; তা সরাসরি দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য, শাসক-বিরোধী লড়াই এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ ঘোষণায় জানা গেছে, ২৭ অক্টোবর বিকেলেই SIR-এর নির্দিষ্ট কার্যসূচি সরকারিভাবে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে, এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজের উপস্থিতিতেই সাংবাদিক সম্মেলনে এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন। ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা ও সংশোধনের লক্ষ্যে SIR-এর প্রয়োজনীয়তা এতদিন ধরে বারবার উঠেছে। ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখা, একাধিক ভোটার/ডুপ্লিকেট নামের সমস্যা নিরসন, ঠিকানা পরিবর্তনজনিত নানা জটিলতা — এসব দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা এই বিশেষ তালিকা সংশোধন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য । কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর প্রথম দফায় অন্তত ১০-১৫টি রাজ্যে এই প্রক্রিয়া চলবে, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ অন্যতম। চুপচাপ ভোটার তালিকা সংশোধনের বদলে এবার দুর্নীতির অভিযোগ রোধে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে । SIR-এর প্রশাসনিক প্রস্তুতি – বিহারে SIR পরিচালিত হওয়ার সময় ১১ প্রকার নথি নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছিল, বাংলাতেও একই নথি লাগতে পারে বলে ধারণা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বুথ লেভেল অফিসার (BLO) SIR-এর ফর্ম বিতরণ ও সংগ্রহ করবে। পাশাপাশি দু’টি স্তরে বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে—একটি মহকুমাশাসকের কার্যালয়ে, অন্যটি জেলাশাসকের দপ্তরে। শরণার্থী, পরিযায়ী শ্রমিক, এবং ভিন-রাজ্যে কর্মরত ভোটাররা যাতে তালিকা সংশোধনে পিছিয়ে না পড়ে, সেই কারণেই সহায়তা কেন্দ্র বাড়ানো হল।
[আরও পড়ুন] http://যোগীরাজ্যে সাংবাদিক খুনের মিছিল
SIR ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে দূরত্ব বাড়ছে । বিজেপি নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে রাজ্যজুড়ে প্রচার বাড়িয়েছে, প্রতি মহকুমায় সেমিনার করার পরিকল্পনা। বিরোধী পক্ষ ভোটার যাচাইয়ের কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট কর্তাদের সাসপেন্ড করার দাবিও তুলেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি —”এবার আপনি যা দেখবেন, তা জীবনে কল্পনা করতেও পারেননি।” ২০২৫ সালে বাংলায় ভোটার তালিকা সংশোধনের অর্থ রাজনৈতিক নকশায় নতুন সংযোজন। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সামাজিক পরিসংখ্যানে SIR একটি বড় পরীক্ষা। জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি, ভোটার আইডি ও নথিপত্র প্রস্তুত রাখতে এখনই সতর্ক থাকা উচিত, কারণ যাচাইতে গড়িমসি হলে ভোটাধিকারের থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভবনা থেকেই যাচ্ছে। প্রান্তিক ও ভাসমান জনগোষ্ঠী, বিশেষভাবে পরিযায়ী শ্রমিক, ভবিষ্যৎ নির্বাচনী তত্ত্বাবধানের ক্ষেত্রে SIR ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই বলেই মনে হচ্ছে। SIR এখন কেবলমাত্র ভোটার আপডেটের বিষয় নয়, দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের বড়ো পরীক্ষামঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে ।
