নিউজ পোল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর পুরনো চাকরিতে ফিরতে শুরু করেছেন রাজ্যের একাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা (WB teachers)। এর জেরে ফের সঙ্কটে পড়েছে রাজ্যের স্কুলগুলি। বিশেষত উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়াদের পড়াশোনার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। শিক্ষা দফতরের সূত্রে খবর, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে প্রায় সাড়ে পাঁচশ শিক্ষক-শিক্ষিকা (WB teachers) পুরনো চাকরিতে ফেরার অনুমোদন পেয়েছেন। অন্যদিকে, প্রাথমিক স্তরে এই সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। ফলে একাধিক স্কুলে বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষক শূন্য হয়ে পড়ছে, যার ফলে শিক্ষাদান কার্যত বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উত্তর ২৪ পরগনার নারায়ণচন্দ্রদাস বাঙ্গুর স্কুলের রসায়নের শিক্ষিকা অঙ্কিতা সরকার ২০১৬ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। পরে তাঁর চাকরি বাতিল হলেও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তিনি ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজে বহাল ছিলেন। এই সময়েই তিনি পূর্ব বর্ধমানের স্কুল ইন্সপেক্টর (এসআই) পদে পুরনো চাকরিতে ফিরে যাচ্ছেন। স্কুলের প্রধানশিক্ষক সঞ্জয় বড়ুয়া জানান, “রসায়ন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন—এই ধরনের বিষয়ের শিক্ষক (WB teachers) অনেক স্কুলেই এক জন। হঠাৎ করে তাঁদের চলে যাওয়ায় উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়াদের পড়ানো নিয়ে গুরুতর সমস্যা তৈরি হয়েছে।”
একই পরিস্থিতি দমদম মতিঝিল গার্লস হাইস্কুলেও। এই স্কুলে ২০১৬ সালের প্যানেলের তিন জন শিক্ষক-শিক্ষিকা (WB teachers) রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে দু’জন ইতিমধ্যেই অন্য চাকরিতে ফিরে যাওয়ার আবেদন করেছেন। ইংরেজি বিভাগে তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন প্রধানশিক্ষিকা পায়েল দে। তাঁর কথায়, “এই তিন শিক্ষক (WB teachers) না থাকলে পরের বছর থেকে ইংরেজি মাধ্যমে ছাত্র ভর্তি নেওয়া সম্ভব নয়।”
শিক্ষকদের পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজেও ধাক্কা লাগছে। অনেক শিক্ষক (WB teachers) মিড ডে মিল বা অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের নোডাল অফিসার হিসেবে কাজ করতেন। তাঁদের চলে যাওয়ায় সেই দায়িত্বও এখন অনিশ্চিত।এখন প্রশ্ন, নতুন শিক্ষকদের নিয়োগ ছাড়া এই শূন্যস্থান কী ভাবে পূরণ হবে। সামনে উচ্চ মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও বার্ষিক পরীক্ষা—তার আগেই এই শিক্ষক-সঙ্কটের মেঘ রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার আকাশে ঘনিয়ে এসেছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
