Editorial: গুগল সার্চ: তথ্য খোঁজার নির্ভরযোগ্য সম্রাট

সম্পাদকীয়

       ইন্টারনেট মানেই আজ গুগল (Google)সার্চ। তথ্য খোঁজার ক্ষেত্রে এটি বিশ্বের এক নম্বর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে গুগল এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে মানুষের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর খোঁজার প্রথম ভরসা হয়ে উঠেছে। অথচ গুগল ছাড়াও বহু প্রতিযোগী ছিল বাজারব্যাপী। তার মধে একসময়ের জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিনের নাম ইয়াহু। যা এখনও বিভিন্ন দেশে ব্যবহার হচ্ছে। গুগলের প্রতিযোগীদের বিষয়ে আরও একটু বিশদে দিলে জ্ঞান পিপাসুর সুবিধা হতে পারে। প্রধান বিকল্প ও প্রতিযোগীরা
Bing: মাইক্রোসফটের তৈরি সার্চ ইঞ্জিন, বিশ্বব্যাপী এবং কর্পোরেট মার্কেটে জনপ্রিয়।

Yahoo: এক সময় সবচেয়ে জনপ্রিয়, এখনও বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে।

Yandex: রাশিয়ার বৃহত্তম সার্চ প্ল্যাটফর্ম।

Baidu: চীনে শীর্ষস্থানীয়, মূলত চীনা ভাষাতে চালিত।

DuckDuckGo: গোপনীয়তাকে প্রাধান্য দেয়, ব্যবহারকারীর তথ্য ট্র্যাক করে না।

Brave, Ask: আইনি, নির্দিষ্ট বিষয়ক, সাধারণত ছোট মার্কেটে।

গুগলকে শীর্ষে রাখার প্রধান কারণ এর গতি ও নির্ভুলতা। কোটি কোটি ওয়েবপেজ থেকে মিলিসেকেন্ডের মধ্যে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক তথ্য খুঁজে আনার ক্ষমতা গুগলকে অন্য সব প্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে আলাদা করেছে। শুধু কীওয়ার্ড নয়, ব্যবহারকারীর প্রশ্নের আসল উদ্দেশ্যও বুঝে নেয় আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং নির্ভর অ্যালগরিদম।

[আরও পড়ুন]   http://North Korea:কে দিল এত সাহস?
গুগলের আরেকটি বড় শক্তি এর বিশাল ডাটাবেস। প্রায় প্রতিটি ওয়েবসাইটই আজ গুগলের ইনডেক্সের অন্তর্ভুক্ত। ফলে ব্যবহারকারীর মনে ধারণা তৈরি হয়েছে—ইন্টারনেটে কিছু থাকলে সেটি গুগলে অবশ্যই পাওয়া যাবে। তাই অনেকেই একে ঠাট্টা করে বলেন, গুগল বাবা!
অন্যদিকে, গুগলের সরল ও পরিষ্কার সার্চ পেজও মানুষের পছন্দের তালিকায় রেখেছে এটিকে। বিজ্ঞাপন থাকলেও ব্যবহারকারীরা মূল ফলাফল দ্রুত খুঁজে পান। পাশাপাশি ওয়েব সার্চ ছাড়াও গুগল ইমেজ, গুগল ম্যাপস, ইউটিউব সার্চ, গুগল নিউজ ও গুগল শপিং-এর মতো বৈচিত্র্যময় সুবিধা দিয়েছে। এক প্ল্যাটফর্মেই এত রকম তথ্য খোঁজার সুযোগ ব্যবহারকারীদের অভ্যস্ত করে তুলেছে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো আস্থা। বছরের পর বছর নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে গুগল মানুষের মনে বিশ্বাস অর্জন করেছে। আজ ‘গুগল করা’ শব্দটি শুধু প্রযুক্তি নয়, বরং দৈনন্দিন ভাষার অংশ হয়ে গেছে। একসময় জ্ঞানের খোঁজ ছিল কেবল বইয়ের পাতায়। ভাণ্ডারের খোঁজে জ্ঞান পিপাসু মানুষ ছুটে বেড়াতেন পাড়ার লাইব্রেরী থেকে জাতীয় জ্ঞান ভাণ্ডারের বিভিন্ন প্রান্তে। যার বাড়িতে কিছু বই থাকত তাকে পাড়ায় আলাদা সম্ভ্রমের নজরে দেখা হত। কিন্তু সেই দিনের সূর্য গুগলের হাতে পড়ে অস্ত গেছে এই শতকের গোঁড়া থেকেই।
তথ্য খোঁজার এই সহজ, নির্ভরযোগ্য ও আধুনিক উপায়ই গুগল সার্চকে বিশ্বের এক নম্বর আসনে বসিয়েছে।