কুস্তি নয়, উন্নয়নে চাই কেন্দ্র রাজ্য দোস্তি

সম্পাদকীয়

জকাল সরকারি প্রকল্পের কৃতিত্ব কে বা কারা দাবি করবেন তা নিয়ে চলছে এক সরকারের সঙ্গে আরেক সরকারের কুস্তি। অনেক সময় থমকে যাচ্ছে উন্নয়ন প্রক্রিয়া। রাজনীতি রাজনীতির জায়গাতেই থাকুক। কিন্তু প্রশ্ন যখন মানুষের উন্নয়ন তখন উন্নয়নে নজির হোক কেন্দ্র রাজ্য দোস্তি।

পশ্চিমবঙ্গের নতুন তিনটি মেট্রো রুটের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপান উতর। কেন্দ্রের দাবি, দেশের প্রথম মেট্রো সিটিতে ইন্দিরা গান্ধীর জমানায় কাজ শুরু হলেও সেই কাজ ততটা এগোয়নি যতটা এগিয়েছে গত ১০ বছরে প্রধানমন্ত্রীর জমানায়। আর এখানেই বেধেছে গোল। পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে, এই সমস্ত নতুন মেট্রো রুটের পরিকল্পনা ও অর্থ বরাদ্দের কৃতিত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কেননা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রেলমন্ত্রী ছিলেন তখন এই কাজগুলি তারই মস্তিষ্কপ্রসূত।

দুপক্ষের দাবিই ঠিক। ঠিকই তো, মুখ্যমন্ত্রী যখন রেলমন্ত্রী ছিলেন তখন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে যে নতুন নতুন রেলপথ পরিকল্পনা করেছিলেন সেগুলি ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটাই স্বাভাবিক। তৎকালীন রেলমন্ত্রী এখন মুখ্যমন্ত্রী। সময় বদলেছে, বদলেছে কাজের ধরন। কিন্তু বদলায়নি প্রকল্প। রেল দপ্তরের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের সরকার রেল দপ্তরের সঙ্গে আরো একটু যদি সহযোগিতা করতো তাহলে এই প্রকল্পগুলি অনেক আগেই চালু হয়ে যেত। কিন্তু রাজ্য সরকারের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে কিছু না জানিয়েই একতরফাভাবে কাজ করছে। কেন্দ্র-রাজ্য এই আঁকচা আঁকচিতেই থমকে রয়েছে অনেক জায়গার উন্নয়নমূলক কাজ। যেটা মোটেও কাম্য নয়।

কেননা কেন্দ্র সরকার গোটা ভারতের কাছে দায়বদ্ধ আর রাজ্য সরকার রাজ্যবাসীর কাছে দায়বদ্ধ। দুই সরকারই শেষ পর্যন্ত জনতার কাছে দায়বদ্ধ। তাই জনতার কাজে কুস্তি না করে দোস্তি করলে জনতা জনার্দনের অশেষ উপকার হয়। কৃতিত্বের ভাগীদারি নিয়ে সংকীর্ণ রাজনীতি হয়তো চলতে পারে কিন্তু মানুষের উন্নয়ন সেখানে থমকে যেতে বাধ্য। বাংলার একাধিক সরকারী প্রকল্প যখন বিশ্বের দরবারে স্বীকৃতি লাভ করে তখন সুনাম হয় ভারতের। আর কেন্দ্রীয় সরকার যখন কোন রাজ্যে প্রকল্প তৈরি করে এবং সেই প্রকল্পটা যখন জমি কেন্দ্রিক তখন জমিটা থাকে রাজ্য সরকারের কাছে। সরকারের উচিত রাজ্যের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রেখে মানুষের উন্নয়নে কাজ করে যাওয়া। কেননা মানুষ সরকারকে ক্ষমতায় আনে মানুষের কাজের জন্য। সংকীর্ণ রাজনীতির জন্য নয়।