নিউজ পোল ব্যুরোঃ কথায় বলে চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে। গ্রামগঞ্জে পরে বুদ্ধি বাড়লে বড়জোর চোর পালাবে কিন্তু খোদ রাজধানীর বুকে চোর নয়। পালিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। জনাকীর্ণ শহরের (DelhiBlast)ব্যস্ততম এলাকায় যদি বেপরোয়া বিস্ফোরণ হয় তাহলে ” Negligence of Intelligency ” বললে কিছু ভুল বলা হবে না।
দিল্লি বিস্ফোরণ-কাণ্ডে তদন্ত ও গোয়েন্দা দফতরের গাফিলতি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক সংবাদ ও বিশ্লেষণে। গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক ব্যর্থতা এবং বহু স্তরের প্রশাসনিক গাফিলতিই রাজধানীর নিরাপত্তার এমন চরম বিপর্যয়ে পৌঁছানোর মূল কারণ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে । গোয়েন্দা ও তদন্তের ব্যর্থতা, যেখানে ঘটনাস্থল হাই সিকিউরিটি জোন, সেখানে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় পরিকল্পিতভাবে ঘাতক অবস্থান করেছিল এবং বিস্ফোরণ ঘটায়—তবু নিরাপত্তা চৌকস ব্যক্তিদের তথা স্বত্বে গোয়েন্দাদের নজরে আসেনি। তদন্তে নেমে প্রশাসন ৫০০-সদস্যের টিম গঠন করেছে ; বিশদভাবে অন্তত ১০০০ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, অর্থাৎ প্রস্তুতিতে স্পষ্ট ঘাটতি থেকেই গেছে ।
[আরও পড়ুন] http://দিল্লী কলকাতা রুটে একটি “এয়ার বাস” জরুরী
সন্দেহভাজনদের গতিবিধি সম্পর্কে গোয়েন্দা বিভাগ আগাম কোনো বার্তা দিতে পারেনি, যা গোটা নিরাপত্তা-দফতরের আরেকটি বড় ব্যর্থতা । প্রশাসনিক গাফিলতির দৃষ্টান্ত হিসেবে বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটি সম্প্রতি একাধিকবার মালিকানা বদলেছে কিংবা সংশ্লিষ্টদের সম্পর্কে গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি যে যথেষ্ট ছিল না। এই নিয়ে তদন্তকারী প্রশাসনের নিজস্ব প্রশ্ন উঠেছে । তদন্ত চলাকালে ক্যামেরা ফুটেজ, ফরেনসিক ও নজরদারির টেকনিক্যাল দিকেও দুর্বলতা পাওয়া যাচ্ছে, যার ফলে অপরাধী দ্রুত শনাক্ত হয়নি । জম্মু ও কাশ্মীর থেকে জেএম (জৈশ-ই-মহম্মদ) সংশ্লিষ্ট একজন চিকিৎসককে এখন গিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে, অর্থাৎ বিস্ফোরণ-পরবর্তী তদন্তই মূলত অভিযুক্তদের নাগালে আনছে—আগাম গোয়েন্দা ব্যবস্থা এখানে কার্যত বিফল ।
সম্পাদকীয় মূল্যায়নঃ-দিল্লির মতো (DelhiBlast)সংবেদনশীল শহরে গোয়েন্দা, পুলিশ এবং নিরাপত্তা শাখার বহুমাত্রিক গাফিলতি স্পষ্ট । শহরের অত্যন্ত সুরক্ষিত চত্বরে বিস্ফোরণ ঘটানো এবং পরিকল্পিত জঙ্গি কার্যকলাপ ঠেকাতে প্রশাসন পুরোপুরি ব্যর্থ—এটা উন্নত তথ্যভান্ডার ও দৃঢ় গোয়েন্দা সমন্বয়ের অভাবকে সামনে আনে। তদন্তে SIT গঠন, হাজারো ফুটেজ বিশ্লেষণ ও রাষ্ট্রীয় সংস্থার জোরাল সক্রিয়তা এখন প্রমাণ করে, এই চরম বিপদ এড়ানো যেত আগাম বার্তা আর সক্রিয় গোয়েন্দা তথ্য থাকলে। নাগরিক নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও মাঠ-ভিত্তিক গোয়েন্দাগিরিতে বড় রকমের সংস্কার সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে ।
