দুর্গাপুজো আসতে আর মাত্র ক’দিন বাকি। চারদিকে মণ্ডপ সাজানোর প্রস্তুতি, আলো ঝলমলে রাস্তা, আর মানুষের মধ্যে আনন্দের ঢেউ। কিন্তু এই আনন্দের মাঝেই বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে উঠছে বাংলার রাস্তার অবস্থা। বর্ষা এখনও পুরোপুরি বিদায় নেয়নি। তাই অনেক জায়গায় জল জমে রাস্তাঘাট কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। গর্ত, ভাঙাচোরা ডামর, আর কাদা—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে গাড়িচালক—সবাইকে পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে।
প্রতি বছরই এই সময়ে পুজোর আগে রাস্তা সংস্কারের দাবি ওঠে। তবে কোথাও কাজ হয় শেষ মুহূর্তে, আবার কোথাও কাজ শুরু হলেও তা সময়মতো শেষ হয় না। ফলে মণ্ডপ দর্শনে বের হওয়া মানুষকে পায়চারি হোক বা গাড়ি—দুটো ক্ষেত্রেই ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এমনকি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ে। রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি পরিষেবাও সময়মতো পৌঁছতে পারে না।
আরও পড়ুনঃ SSC Scam : একেই বলে ঠেলার নাম বাবাজি, ঝুলি থেকে বের হচ্ছে অযোগ্যদের লিস্ট
রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা ও পঞ্চায়েতকে ইতিমধ্যেই রাস্তা সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হলেও কাজের গতি সন্তোষজনক নয়। অনেক জায়গায় বৃষ্টির কারণে কাজ আটকে আছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—সারা বছর সময় থাকা সত্ত্বেও কেন উৎসবের ঠিক আগে কাজের তাগিদ বাড়ে?
“হুগলী জেলার চন্দননগর কিংবা উত্তর ২৪ জেলার অশোকনগরের কিছু রাস্তা শুধুই ব্যতিক্রম। আর সকলেই জানে ব্যতিক্রম নিয়মকেই প্রতিষ্ঠা দেয়। “
দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বাংলার সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব। দেশ-বিদেশ থেকে মানুষ এই সময় রাজ্যে ভিড় করেন। সেই উৎসব যদি রাস্তাঘাটের কারণে ম্লান হয়ে যায়, তাহলে কেবল সাধারণ মানুষের নয়, বাংলার ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হবে। তাই সময় থাকতে রাস্তা সংস্কার ও জলনিকাশ ব্যবস্থার উন্নতি করা জরুরি। না হলে আনন্দের এই মহোৎসবে ভোগান্তি ঢেকে দেবে আলোর ঝলক।
বলা যায়, দুর্গাপুজোর সার্থক আনন্দ তখনই হবে যখন মানুষ নির্বিঘ্নে রাস্তায় নামতে পারবেন, আর খারাপ রাস্তা আর কাদাজলে আটকে থাকবে না তাদের উৎসবের উচ্ছ্বাস।
