নেপাল(Nepal)—হিমালয়ের কোলে ছোট্ট অথচ ঐতিহাসিক এক দেশ। বিশ্ববাসীর কাছে এই দেশটির পরিচয় লুম্বিনীর জন্য, যেখানে জন্ম নিয়েছিলেন গৌতম বুদ্ধ। যিনি সহমর্মিতা, সংযম আর শান্তির পথ দেখিয়েছিলেন মানবজাতিকে। কিন্তু আজ দুঃখজনকভাবে নেপাল সেই শান্তির বার্তা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।
সম্প্রতি নেপাল (Nepal chaos)জুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক অশান্তি। সরকার হঠাৎ করে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব ও এক্স-এর মতো সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করে দেয়। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে হাজার হাজার যুবক, যাদের ‘Gen Z’ বলা হচ্ছে, রাস্তায় নেমে আসে। তারা শুধু সামাজিক মাধ্যম ফেরানোর দাবি জানাচ্ছে না, বরং দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অচলাবস্থার বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। আন্দোলন দমন করতে পুলিশ গুলি চালায়, টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ে। এতে অন্তত 21 জন প্রাণ হারিয়েছে, শতাধিক আহত হয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডুতে কারফিউ জারি করতে বাধ্য হয় সরকার, আর বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানোর ঘটনাও ঘটেছে।
[আরও পড়ুন] https://thenewspole.com/2025/09/08/editorial-bengal-road-are-not-ready-for-durgotsab/
এই অস্থিরতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে নেপালের(Nepal chaos) নতুন প্রজন্ম আর দুর্নীতি, বৈষম্য ও ক্ষমতার খেলায় নীরব থাকতে রাজি নয়। তারা একটি স্বচ্ছ ও স্বাধীন সমাজ চায়, যেখানে মত প্রকাশের অধিকার থাকবে। সরকারের পক্ষ থেকেও তদন্ত কমিটি গঠন ও ক্ষতিপূরণের ঘোষণা এসেছে, তবে প্রকৃত সমাধান এখনও অনিশ্চিত।
এমন পরিস্থিতিতে বুদ্ধের বাণী(Buddhadeb) আজ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। বুদ্ধ শিখিয়েছিলেন—সংঘাত নয়, সংলাপই শান্তির পথ। সহমর্মিতা ও সমঝোতা দিয়েই সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে। নেপালের নেতাদের উচিত নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থ ভুলে জনগণের দাবি শোনা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। একইসঙ্গে যুবসমাজকেও দায়িত্বশীলভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পথ বেছে নিতে হবে।
আরও পড়ুনঃ বাংলার রাস্তাতেও পরুক উৎসবের প্রলেপ
আজ পৃথিবী যখন নানা অশান্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন বুদ্ধের(Buddhadeb)জন্মভূমি থেকে আবার শান্তির আলো ছড়িয়ে পড়া জরুরি। নেপাল যদি সত্যিই বুদ্ধের শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করতে পারে, তবে অশান্তির বদলে শান্তি ফিরে আসবে, আর সেই শান্তিই হবে বিশ্বকে নতুন দিশা দেখানোর শক্তি।
