আজ নবমী। দুর্গা পুজোর শেষ লগ্নে ঢাকের শব্দে যেন আজ একটু করুণ সুরেই বাজছে।
একদিকে আনন্দময়ী – মা এখনও মণ্ডপে, আলোয় ভাসছে প্রতিটি পাড়া, শহর থেকে গ্রাম তখন অন্যদিকে, ভক্ত মনও কাঁদছে, চোখ ছল ছল – কারণ আগামীকাল সকালের সূর্য জানান দিচ্ছে মা আজ বিদায় নেবেন মর্ত্য থেকে। মন ভার হলেও মা তো এখনও আছেন আমাদের মাঝে। এটাই সব থেকে বড় কথা।
কিন্তু নবমীর আসল মাহাত্ম্য?
সন্ধি পূজা! একশো আটটি প্রদীপে যখন আলো জ্বলে ওঠে, তখন এক মুহূর্তে মনে হয় – এই অন্ধকার দুনিয়ার সব দুঃখ কষ্ট বোধয় এবার পালিয়ে যাবে।
[আরও পড়ুন] http://durga-puja-almost-started-competition-between-bjp-tmc/
পুরাণ বলে, ঠিক এই সন্ধিক্ষণে মা মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন।
তাই নবমীর এই মুহূর্ত – ভক্তি ও ভাবের মুহূর্ত।
কিন্তু মা হোমের অগ্নিতে তো আমরা সকলেই আহুতি দিয়ে তোমার কাছে চেয়েছি মা তুমি আমাদের রূপ দাও, যশ দাও, আমাদের তুমি বিজয়ী কর এবং আমাদের শত্রুদের নাশ কর। আমাদের শস্য শ্যামলা বাংলায় শান্তি রূপে বিরাজ কর।
সত্যি বলতে কী, মা-ও হয়তো ভাবেন – “আমাকে ডাকছো না ডিস্কো লাইটে?!”
নবমী মানেই আবেগ।
মণ্ডপের সামনে দাঁড়িয়ে মনে হয় – মা আছেন, মায়ের শক্তি আছে,
আমরা এখনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে পারি।
এই শক্তির প্রতীকই তো সন্ধি পূজা – আলো জ্বালানো মানে অন্ধকারকে হারানো।
তাই এই নবমীতে প্রার্থনা একটাই –
মা, তুমি বিদায় নেবে ঠিকই, কিন্তু আমাদের মনের ভেতর যেন চিরকাল থাকো। আলোক বর্তিকা হয়ে।
