Editorial : বিহার নির্বাচন রাত পোহালেই

সম্পাদকীয়

নিউজ পোল ব্যুরোঃ রাত পোহালেই শুরু বিহার বিধানসভা নির্বাচন(BiharPoll-25), যা রাজ্যের সামগ্রিক রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে উঠতে চলেছে। প্রথম দফার পরে শেষ দফার ভোট হবে ১১ তারিখ। ১৪ নভেম্বর ভোটের ফলাফল ঘোষণা।
জোট ও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা- এবারের নির্বাচনে(BiharPoll-25) মূল লড়াই দুটি বড় জোটের মধ্যে—এনডিএ (BJP, JDU, LJP (R), HAM(S), RLM) এবং মহাগঠবন্ধন (RJD, Congress, VIP,Left Fronts)। বিগত নির্বাচনে এনডিএ অনেকটা অল্প ব্যবধানে জিতলেও এবার পরিস্থিতি যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। এনডিএ(NDA)শিবিরে নিজস্ব নেতৃত্ব পরিবর্তন এবং আসন ভাগাভাগিতে নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে । অপরদিকে, মহাগঠবন্ধন তাদের মূল নেতা তেজস্বী যাদব-কে সামনে রেখে পুরনো ‘জঙ্গল রাজ’ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে আক্রমণের চেষ্টায়।

[আরও পড়ুন]   http://বৃহত্তম গণতন্ত্রের শুদ্ধিকরণ অভিযান শুরু

নির্বাচন ইস্যু ও জনমত – বিহারে এবারের নির্বাচনে সামাজিক ন্যায় এবং উন্নয়ন যেমন, তেমনই কর্মসংস্থান, শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষকের সমস্যা, এবং নারী ক্ষমতায়নের মতো বিষয় প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে । যদিও প্রচারে জাতপাতের উপাদান এতদিন ছিল মূল চালিকা শক্তি, এবার অনেকাংশে ‘ডেভেলপমেন্ট বনাম অব্যবস্থা’ আলোচনার কেন্দ্রে। এনডিএ তাদের ইস্তেহারে যথেষ্ট কর্মসংস্থান, মহিলা ‘লক্ষ্মী দিদি’স্কিম, কেন্দ্রীয় প্রকল্প ও নীতীশ কুমারের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা জোর দিয়ে প্রচার চালাচ্ছে । মহাগঠবন্ধন পাল্টা দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং রাজ্যে সরকারি প্রকল্প নিয়ে ঘাটতির প্রশ্ন তুলছে।
ব্যক্তিত্ব ও এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন সমীকরণ – এইবারের নির্বাচনে বিশেষ আলোচনায় রয়েছেন রাষ্ট্রীয় নেতা তেজস্বী যাদব, বিজেপির ডেপুটি সিএম সম্রাট চৌধুরী, বিজয় সিনহা, তেজ প্রতাপ যাদব, এবং অন্যান্য তথাকথিত সেলিব্রিটি প্রার্থী। পাশাপাশি ‘রাজনৈতিক হত্যা’ও অতীতের ‘জঙ্গল রাজ’ বনাম ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’—এই দুই ন্যারেটিভের সংঘাত লক্ষণীয়। একই সঙ্গে মাঠে রয়েছে প্রশান্ত কিশোরের জন সুরজ পার্টি, কিছু অংশে তৃতীয় শক্তি হয়ে ওঠার চেষ্টা রয়েছে ।
উপসংহার – বিহার নির্বাচন-২০২৫(BiharPoll-25) শুধুমাত্র রাজ্য নয়, উপমহাদেশীয় রাজনীতিতেও প্রভাব বিস্তার করবে। ১৯৫৬ সালের পর থেকে এই রাজ্যে বাহুবলি আর রিগিং একটা বড় ফ্যাক্টর হয়ে ওঠে। যেই জিতুক। রাজ্য গুন্ডারাজ মুক্ত হয়েছে বা হবে ভাবার কোন কারণ নেই। এ রাজ্যে রাজনৈতিক বোঝাপড়া, উন্নয়ন এবং জাত-পাতের প্রভাবের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই বুঝিয়ে দেবে , কোন পথে চলবে আগামীদিনের বিহার। এবারের নির্বাচনে মূল লড়াই সরকারের ওপর আস্থা বনাম পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী ইস্যু, জোটসমীকরণ ও প্রার্থী-সম্পর্কিত নির্বাচনী ইস্যুর পর ভোটারের মন জয়ের ভার থাকবে রাজ্যের সাধারণ মানুষের হাতে। গণতন্ত্রের জয় নাকি সার্বিক অরাজকতা- কোনদিকে যাবে বিহার। দেখা যাক।