Edotorial: তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে অস্থিরতা কমানো দরকার

সম্পাদকীয়

তৃতীয় বিশ্বের(third-world) অস্থিরতার পিছনে মূলত বহু কারণ এবং বিভিন্ন পক্ষের হাত রয়েছে—এর মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়, বৈষম্য, দুর্নীতি, অনুন্নত প্রতিষ্ঠান, বিদেশি হস্তক্ষেপ ও প্রাকৃতিক সম্পদের ভুল ব্যবস্থাপনা । এর সঙ্গে বহু রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা বা নিপীড়ন। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে একনায়কতান্ত্রিক বা দুর্বল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, যেখানে শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা ধরে রাখতে নানা ধরনের নিপীড়ন, অদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্তহীনতা দেখায়—এগুলি অ-স্থিতিশীলতার বড় কারণ।
আর্থ-সামাজিক বৈষম্য : সমাজে আয়-সম্পদের বৈষম্য, বেকারত্ব, শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধার অভাব মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও বিদ্রোহ সৃষ্টি করে, যার ফলে সংঘর্ষ, বিদ্রোহ ও রাজনৈতিক সংকট বাড়ে ।
জাতিগত ও ধর্মীয় গোলযোগ: বহু দেশেই জাতিগত, ধর্মীয় ও বর্ণবৈষম্য বিদ্যমান—শাসক শ্রেণি কখনও কখনও এগুলোকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে, যার ফলে বিরোধ ও দ্বন্দ্ব শুধু সৃষ্টি হয়না, বেড়েও যায় ।
নিয়ন্ত্রিত প্রাকৃতিক সম্পদ: তেল, খনিজ, জলবায়ু ইত্যাদির ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী ও বিদেশি সংস্থার দ্বন্দ্ব, যা প্রায়ই সংঘর্ষ ও অ-স্থিতিশীলতার প্রতীক। এর সঙ্গে রয়েছে বিদেশের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ।
বিদেশি হস্তক্ষেপ হিসেবে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও শক্তিধর দেশ: IMF, World Bank,বড় শক্তিধর রাষ্ট্র (যেমন, আমেরিকা-রাশিয়া,চিন) সুযোগ পেলে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক হস্তক্ষেপ করে, যা কখনও কখনও অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দেয়।
বিদেশি সাহায্য ও ঋণ: বিদেশি সাহায্য বা ঋণের মাধ্যমে দেশগুলির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কখনও কখনও আরও বিপর্যস্ত হয়; শাসক শ্রেণী দুর্নীতির মাধ্যমে এসব সম্পদের অপব্যবহার করে ।
প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা : গণতন্ত্র, প্রশাসন, আদালত ইত্যাদি ব্যবস্থা দুর্বল হলে নিপীড়ন ও দুর্নীতি বেড়ে যায়, ফলে প্রকাশ্য সংঘর্ষ ও সামাজিক অপশাসন তৈরি হয় ।
দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি : রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সম্পদের অপব্যবহার, দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসন—এগুলো স্থায়ী অস্থিরতা ও জনগণের অসন্তোষের প্রধান কারণ ।

[আরও পড়ুন ] https://thenewspole.com/2025/09/09/the-birthplace-of-buddhadeb-in-nepal-should-be-in-peace/

সংক্ষেপে বলতে গেলে তৃতীয় বিশ্বের(Asian countries) অস্থিরতার পিছনে একাধিক পক্ষ—দেশীয় শাসক গোষ্ঠী, বিদেশি শক্তি, দুর্বল প্রতিষ্ঠান, সামাজিক বিভেদ ইত্যাদি—মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে, যার সমন্বয়ে সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় ।
এই কারণগুলির মূল চালিকাশক্তির এক বা একাধিক অণুঘটকের কারণসমূহ, যখন কোন একটা দেশে গোপন ষড়যন্ত্রে বেড়ে ওঠে তখনই তৈরি হয় শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ কিংবা হালের নেপাল। যার নাগপাশ থেকে শুধু এশিয়া মহাদেশের দেশগুলিই নয়। সম্প্রতি ফ্রান্সেও শুরু হয়েছে বিদ্রোহের দামামা। ওষুধ একটাই। রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে সঙ্গে দূর করতে হবে অর্থনৈতিক দুর্বলতা। হয়ে উঠতে হবে স্বাবলম্বী, আত্মনির্ভর। এশিয়া মহাদেশের দুই শক্তিধর দেশ হিসেবে চিন আর ভারত। যাদের নজরদারির সঙ্গে সঙ্গে শান্তির বাতাবরণ ছড়িয়ে দেওয়াই আশু কর্ম। ভারতবর্ষের দায়িত্ব তাই আরও বেড়ে গেল।