Editorial: Nithari Murder case: সিবিআই ছাড়া দোষী আর কেউ না

সম্পাদকীয়

নিউজ পোল ব্যুরোঃ সম্প্রতি নিঠারি হত্যা মামলার (Nithari Murder)মূল অভিযুক্ত সুরিন্দর কোলিকে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট খালাস দিয়েছে, যা শিশু দিবসে জন্ম নেওয়া এক গভীর প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে—এমন ভয়ঙ্কর শিশু হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার আদৌ কি সম্ভব? এই মামলায় ভারতের মূল তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের ব্যর্থতা আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে, কারণ দীর্ঘ বিচার-প্রক্রিয়া শেষে এত বড় অপরাধের কোনো দোষী চিহ্নিত হলো না, বরং নির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে সবাই মুক্তি পেয়ে গেল ।
নিঠারি মামলা: কী ঘটেছিল? ২০০৫-০৬ সালে উত্তরপ্রদেশের নয়ডার নিঠারি গ্রামের এক বাসভবন থেকে শিশুর দেহাবশেষ ও পোশাক উদ্ধার হয়, যা সারা দেশে তীব্র আলোড়ন তোলে (Nithari Murder)। ব্যবসায়ী মনিন্দর সিং পান্ধের ও তার গৃহকর্মী সুরিন্দর কোলির বিরুদ্ধে একাধিক ধর্ষণ, হত্যা ও শিশু পাচারের মামলা তৈরি করে পুলিশ ও পরে সিবিআই । ২০০৭ সালে সুরিন্দর কোলিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একবার নয়, বার বার ১৩ বার। একবার তো ২০১৪ সালে রাত পোহালেই ফাঁসি দেওয়ার আদেশ প্রায় কার্যকরী হয়েই যাচ্ছিল। কিন্তু সেবার মধ্যরাতে সুপ্রিম কোর্টের শুনানি বসে। সুরিন্দরের আইনজীবী বিচারপতিকে সেই আদেশ কার্যকরী করায় স্থগিতাদেশ আনতে সক্ষম হন। তারপরে

[আরও পড়ুন]  http://বিহারে সরকার টেঁকার দিকেই পাল্লা ঝুঁকে

প্রমাণের দুর্বলতায় পরপর বিভিন্ন মামলায় তিনি খালাস পেতে থাকেন । শেষ পর্যন্ত মাত্র একটি মামলায় ফাঁসির আদেশ বহাল থাকে। কিন্তু সেই আদেশ কার্যকরী করতে এতটাই দেরি হয়ে যায় যে সেই কারণ দেখিয়ে শেষ মামলাতেও নিঃশর্তে মুক্তি পেয়ে যায় সুরিন্দর। ১১ ই নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট থেকেও চূড়ান্তভাবে মুক্তি পায়। সমালোচিত হয় সিবিআই । আইনের ফাঁক গলে বেড়িয়ে যায় এতবড় অপরাধের অভিযুক্ত। আর নিখোঁজ হতভাগ্য শিশুদের অভিভাবকের দলের কাছে কান্না আর বিলাপ ছাড়া কিছুই সান্ত্বনার থাকেনা। সিবিআইয়ের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত কাউকেই এত জন শিশুর হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা যায়নি। দোষী হিসেবে একমাত্র রয়ে যায় সিবিআই । সিবিআইয়ের তদন্ত কোথায় বিফলে গেল? ঘটনায় চাঞ্চল্য থাকলেও সিবিআইয়ের নথি আর সাক্ষ্য প্রমাণ আদালতে টিকল না। প্রতি পদে কেন ঠিক মত প্রসেসিং হল না। আদালত শুধু প্রমাণ বোঝে। সেটাই একটা এক্সপার্ট দফতর ঠিকঠাক দাখিল করতে পারল না। পুলিশ তদন্তের গাফিলতি, সাক্ষ্যপ্রমাণের ভীষণ দুর্বলতা এবং অপরাধের প্রধান পদ্ধতিগত গড়বড় তদন্তকারী সংস্থার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে । বারবার আদালত পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, বহু বছর ধরে বিচার চলার পরও হত্যার প্রামাণ্য ধারাবাহিকতা দাঁড় করানো যায়নি, সঠিক ফরেনসিক গবেষণা ও সাক্ষ্য উপস্থাপনে চূড়ান্ত ব্যর্থতা দেখা গিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও সমাজের প্রশ্ন? শিশুহত্যার বিচার চেয়ে প্রায় দুই দশক ধরে অপেক্ষারত পরিবারগুলো আজ হতাশ ও ক্ষুব্ধ—’যদি কেউ দোষী না হয়, তাহলে আমাদের সন্তানদের কে হত্যা করল?’—এ প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক । আদালত যখন বলে, ‘প্রমাণের অভাবে দায়মুক্তি’, তখন যারা তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন, তাদের জবাবদিহি কোথায় ? তদন্তকারী সংস্থার অব্যর্থতা কেন বারবার শিশু নির্যাতন মামলায় সামনে আসে ?
শিশু দিবসে এমন এক দুর্লভ রায়(Nithari Murder) সমাজকে নাড়া দেয়। শিশু সুরক্ষা ও বিচারব্যবস্থার বিয়োগান্তক এই সঙ্কেত রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ের জন্যই অশনি সংকেত — শিশুদের ন্যায্য অধিকার ও নিরাপত্তায় সরকারি ব্যবস্থার ব্যর্থতা কত গভীর, তা স্পষ্ট হয়ে উঠল নিঠারির মামলার খালাসের মধ্যে দিয়ে। শিশুদের নিরাপত্তায় গোটা সমাজ ব্যবস্থারই নান্দনিক ও মানবিক প্রশ্ন চিহ্নিত হলো । শিশুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ১৯ বছর পরেও ন্যায়বিচার অধরা রইল—এ এক পক্ষাঘাতগ্রস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রের দৃষ্টান্ত। সিবিআইসহ সমস্ত তদন্তকারী ও বিচার সংস্থার দায়িত্ব নিতে হবে, নইলে কালক্রমে এমন অপরাধ সমাজে আরও বেড়ে যেতে বাধ্য। শিশু দিবসে এটাই হোক আমাদের প্রত্যয়—শিশু সুরক্ষায় তদন্ত ও বিচারব্যবস্থার জবাবদিহি চাই, অন্ধকারের মধ্যে নয়, ন্যায়ের আলোয়।