চোখ খুলেই আধুনিক প্রযুক্তি। আর মাথার উপর রাজতন্ত্রের কিংবা স্বৈরতন্ত্রের বেড়ি। এমন বিপরীত বৈষম্য সপ্তম প্রজন্ম(Genz)মেনে নিতে পারেনা কিছুতেই। তাই তো গত পাঁচবছরে এশীয় মহাদেশেরই তিন-তিনটি দেশে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার(Nepal)বদল ঘটিয়ে দিল আজকের তরুণ সমাজ, যাদের আমরা জেন জে (GenZ)নামে চিনি। তারা প্রযুক্তির আলোয় জন্ম নেওয়া এক অভিনব প্রজন্ম। তাদের হাতে স্মার্টফোন, চোখে সোশ্যাল মিডিয়ার রঙিন দুনিয়া, আর মাথায় অসীম তথ্যভাণ্ডারের দরজা। জেন জে (Genz)দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়, সাহসী প্রশ্ন তোলে, এবং পৃথিবীকে নতুন চোখে দেখতে শেখায়। কিন্তু এর পাশাপাশি আছে এক ধরণের তাড়াহুড়ো, বাস্তব সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রবণতা, আর অনেক সময় অস্থিরতার ছাপ।
https://thenewspole.com/2025/09/09/the-birthplace-of-buddhadeb-in-nepal-should-be-in-peace/
অন্যদিকে বেবি বুমার, জেন এক্স কিংবা মিলেনিয়াল প্রজন্ম—তারা শিখিয়েছে ধৈর্য, পরিশ্রম, আত্মত্যাগ এবং ভারসাম্যের মূল্য। প্রতিটি প্রজন্ম সমাজকে দিয়েছে নতুন কিছু, আর রেখে গেছে অভিজ্ঞতার এক অমূল্য ভাণ্ডার। সেই অভিজ্ঞতা যদি তরুণদের প্রযুক্তি আর উদ্যমের সঙ্গে মিলে যায়, তবে গড়ে উঠবে উন্নততর সমাজের সিঁড়ি।
মানবসভ্যতার ইতিহাসে প্রতিটি প্রজন্মই সমাজকে দিয়েছে নতুন চেহারা। প্রতিটি প্রজন্মের আছে নিজস্ব অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও শিক্ষা। আজকের দিনে আমরা সাধারণত সাতটি প্রজন্মকে আলাদা করে চিহ্নিত করি—সাইলেন্ট জেনারেশন, বেবি বুমার, জেন এক্স, মিলেনিয়াল বা জেন ওয়াই, জেন জেড, জেন আলফা ও আসন্ন জেন বিটা। (SevenGeneration)এরা শুধু বয়সের ভিত্তিতে ভিন্ন নয়, তাদের জীবনদর্শন, প্রযুক্তি ব্যবহার, সমাজ ভাবনা ও মূল্যবোধেও রয়েছে পার্থক্য। কিন্তু এই পার্থক্য বিভেদ নয়; বরং হতে পারে ভবিষ্যতের উন্নত সমাজ গড়ার সেতুবন্ধন।
সাইলেন্ট জেনারেশন (SevenGeneration)যুদ্ধ-পরবর্তী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শিখিয়েছে ধৈর্য ও শৃঙ্খলার পাঠ। বেবি বুমাররা কঠোর পরিশ্রম ও পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার শিক্ষা দিয়েছে। জেন এক্স শিখিয়েছে পেশা ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষা। মিলেনিয়ালরা সাহস করেছে আত্মপ্রকাশের, প্রযুক্তি ও বিশ্বায়নের সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। জেন জেড হলো তথ্যপ্রযুক্তির সন্তান—তারা দ্রুত, সাহসী এবং সামাজিক প্রশ্নে স্পষ্টবাদী। নতুন জন্ম নেওয়া জেন আলফা একেবারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ভার্চুয়াল জগতের যুগে বড় হচ্ছে, যাদের শিক্ষা পদ্ধতি ও চিন্তাধারা সম্পূর্ণ নতুন ধাঁচের। আর আসন্ন জেন বিটা হয়তো জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম জীববিজ্ঞান ও মহাকাশ অভিযানের বাস্তবতার সঙ্গে বেড়ে উঠবে।
প্রজন্মের ব্যবধান আসলে দেয়াল নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক সিঁড়ি। প্রবীণরা তাদের ধৈর্য, অভিজ্ঞতা আর মূল্যবোধ শেয়ার করলে, তরুণরা তা প্রযুক্তি, নতুন ভাবনা ও সৃজনশীলতায় এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। আগামী দিনের সমাজ হবে এই মিলনের ফসল। তাই প্রয়োজন বোঝাপড়া, শ্রদ্ধা আর একে অপরের থেকে শেখার মানসিকতা।
প্রজন্মের (SevenGeneration)ফারাক যেন বিভেদ না হয়ে ওঠে, বরং হয়ে উঠুক সেতুবন্ধন। প্রবীণদের জীবনের শিক্ষা আর মূল্যবোধ তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার সঙ্গে মিলে গেলে আমাদের সমাজ হবে আরও শক্তিশালী। তাই প্রয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও শেখার মনোভাব।
আজকের দিনে বার্তাটি একটাই—অতীতের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন মিলেমিশে গড়ুক বর্তমানের মানবিক পৃথিবী।
