আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস (Non-violance day) প্রতিবছর ২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিনে পালিত হয় ৷ এছাড়া ভারতে এই দিনটি গান্ধী জয়ন্তী হিসেবে পালিত হয় ৷আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস পালনকারী সারাবিশ্ব জাতিসংঘের সদস্য দেশ মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিনকেই বেছে নিয়েছেন। ২০০৪ সালের জানুয়ারি মাসে প্যারিসে ইরানি নোবেল বিজয়ী শিরিন এবাদী তার একজন হিন্দী শিক্ষকের কাছ থেকে দিবসটির ব্যাপারে একটি প্রস্তাবনা গ্রহণ করেন ৷ সিদ্ধান্তটি ধীরে ধীরে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের কিছু নেতাদের আকর্ষণ করতে থাকে ৷ ২০০৭ সালে সোনিয়া গান্ধী এবং ডেসমন্ড টিটু জাতিসংঘে সিদ্ধান্তটি পেশ করেন ৷
[আরও পড়ুন] http://বাংলায় দুর্গাপুজোয় পুঁজির উত্তরণে গতিতরঙ্গ এনে দেবে
এই বছর সেই গান্ধী জয়ন্তীর দিন বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গা পুজোর দশমী তিথি(vijaya Dashami)। এই বিশেষ দিনে এমনিতেই বাঙালি জাতি সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের আলিঙ্গনে আবদ্ধ হয়। এরকম মাহেন্দ্রক্ষণ বা সংযোগ একসাথে বড় একটা ঘটে না। তাই বাঙালি তথা ভারতবাসী এদিন অহিংস মন্ত্রে দীক্ষিত হতেই পারে। অন্তত সেটা এই ভারতীয় পথ প্রদর্শককে যথোচিত সম্মান জানান হবে। দশমী মানে বিসর্জন। শুধু মূর্তির বিসর্জন নয়। এদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে বিদায় জানাতে হবে অহংকে। ভুলতে হবে হানাহানি, রাজনৈতিক বিদ্বেষ। বিশেষ করে যত দিন এগিয়ে আসছে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের দিন ততই বুক কেঁপে উঠছে রাজনৈতিক দলাদলির কথা স্মরণ করে। যে রাজ্যে একটা ক্লাব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুরু হয়ে যায় খুনোখুনির দ্বন্দ্ব। সেখানে বিধানসভার মত একটা বড় মাপের ক্ষমতার মঞ্চকে নিজেদের হাতে পেতে যে কত মায়ের কোল খালি হবে, ভাবতেই স্মৃতির ঝাঁপি থেকে বেড়িয়ে আসছে এবছরের উপনির্বাচনের পরে বোমার আঘাতে কিশোরীর মৃত্যুর কথা। পাঠকের সেই মৃত্যুর কথা ভোলার কথা নয়। আজকের এই বিষাদঘন দিনে সে বিষয়ে বেশি কথা নাইবা লিখলাম! শুধু এই টুকু যদি বাঙালি আজকের দিনে মনে রাখে- ধর্ম মানে যা ধরে রাখে। বাঙালির ঐতিহ্য , বাঙালির সংস্কৃতি বিকাশে মহাত্মা গান্ধীর অবদান অপরিসীম। জাতির প্রাণপুরুষ এই জননায়কের প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন তখনই সার্থক হবে।
